নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। এর ফলে আজ (রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের তীব্র পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
গত সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারা থাকায় বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী ছিলেন যে চলতি সপ্তাহে বাজার আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। কিন্তু ইরানে যৌথ হামলার ঘটনা সেই প্রত্যাশায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই আন্তর্জাতিক উত্তেজনার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে।
তবে বাজার বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, যেকোনো নেতিবাচক পরিস্থিতি স্থায়ী হয় না এবং ইরান হামলার ফলে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে গেলে শেয়ারবাজারে আবার গতি ফিরে আসবে। তারা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করা ঠিক হবে না। বরং ধৈর্যের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
ডিএসইতে রোববার মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে মাত্র ৩০টির দর বেড়েছে, ২৫৩টির দর কমেছে এবং ৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৮.৫৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬১.৭০ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ২৬.৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯.৬৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫২.০৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১৭.৩৭ পয়েন্টে।
লেনদেনের অংকেও বড় পতন দেখা গেছে। ডিএসইতে এদিন ৭৬৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৮০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা কম। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৯৩৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) আজ একই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৫১.৮৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৮২.৮৩ পয়েন্টে। আগের দিন এই সূচক ১৩৭.৫৪ পয়েন্ট বেড়েছিল।
আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৩৩টির, কমেছে ১৩৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টির। এদিন সিএসইতে ১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৬ কোটি ২২ লাখ টাকা কম। আগের দিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।


