নিজস্ব প্রতিবেদক: রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে ফের তদন্তে পড়েছে আম্রা নেটওয়ার্কস লিমিটেড। কোম্পানিটির তহবিল ব্যয়ের বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখতে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর স্বার্থরক্ষার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৮৬তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সভায় জানানো হয়, আম্রা নেটওয়ার্কস রাইট শেয়ার থেকে উত্তোলিত অর্থ নেটওয়ার্ক সিস্টেম আধুনিকায়ন ও কভারেজ সম্প্রসারণে ব্যয় করার দাবি করলেও প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি ও ব্যয়ের সত্যতা যাচাই প্রয়োজন। ২০২৪ সালের ২০ মে কোম্পানিটি রাইট ইস্যুর মাধ্যমে ৯৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করে, যার বড় অংশ ঋণ পরিশোধ ও নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল।
এর আগে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর কমিশন প্রথম দফায় বিষয়টি তদন্তে পাঠায়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে চলতি বছরের মে মাসে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা আগস্টে শেষ হয়। এবার আরও গভীর যাচাইয়ের স্বার্থে উপ-পরিচালক গৌর চাঁদ সরকারকে প্রধান করে সহকারী পরিচালক রেজাউন নুর মেহেদী ও তন্ময় কুমার ঘোষকে নিয়ে তিন সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি।
তদন্ত দলকে ৬০ দিনের মধ্যে মাঠ পর্যবেক্ষণ, আর্থিক নথি বিশ্লেষণসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩.৩৭ শতাংশ বেড়ে ১৮.৩০ টাকায় উন্নীত হয়।
কোম্পানির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবিএসকে জানান, একই বিষয়ে আগেও তদন্ত হয়েছে—তাই আবার কমিটি গঠনের কারণ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে কোম্পানির অনেক গ্রাহক ব্যবসা সংকুচিত করেছেন। পূর্বে যারা বড় ডেটা প্যাকেজ নিতেন, তারা এখন সবচেয়ে ছোট প্যাকেজে নেমে এসেছেন। এছাড়া, অবকাঠামো সেটআপ সেবা থেকে কোম্পানির আয় একসময় উল্লেখযোগ্য হলেও বর্তমানে তা বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রথম ধাপে রাইট শেয়ারের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে। নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশন, নতুন সরঞ্জাম স্থাপন, লিংক সম্প্রসারণসহ প্রকল্পের প্রতিটি পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করবে কমিটি।
কোম্পানির ক্রয়-বিক্রয় নথি, চালান, ভাউচার ও চুক্তিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে দেখা হবে বাজারদরের সাথে কোনো অমিল রয়েছে কি না। ব্যাংক স্টেটমেন্টের সাথে ব্যয় যাচাই করেও সম্ভাব্য সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন খুঁজে দেখা হবে।
এছাড়া, রাইট শেয়ারের অর্থ ব্যবহার করে কেনা সরঞ্জাম কোম্পানির অ্যাকাউন্টে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না, তাও যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফান্ড ইউটিলাইজেশন অডিটর তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন কি না—সেটাও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশও রয়েছে।
অর্থবছর ২৫-এর জুলাই-মার্চ সময়ে কোম্পানিটির ব্যবসায় গুরুতর প্রভাব পড়ে। আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব ২৭.৫১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭১.৬৬ কোটি টাকায়। এতে নিট মুনাফা ৬৮.২৮ শতাংশ কমে ৭.১৫ কোটি টাকায় নেমে আসে।
এই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল মাত্র ৭৭ পয়সা, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বড় ধরনের পতন নির্দেশ করে।


