নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় কমলেও ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে নিট উদ্বৃত্ত বাড়াতে সক্ষম হয়েছে Bangladesh Securities and Exchange Commission (বিএসইসি)। সংস্থাটির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জরিমানা, ফি ও লাইসেন্সিং খাতে আয় কমে যাওয়ায় মোট আয় আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১০৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিমানা ও ফি থেকে আয় ৩২ শতাংশ কমে ৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকে আয়ও ২ শতাংশ কমে ৬৫ কোটি ৩২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কৃচ্ছ্রসাধনের ফলে মোট খরচ ২১ শতাংশ কমিয়ে ৭৫ কোটি ৮২ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। মূলত বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমেই এ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
সব ব্যয় বাদ দেওয়ার পর ২০২৫ অর্থবছর শেষে কমিশনের নিট উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সংস্থাটির মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪৯৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
বিদায়ী অর্থবছরে পুঁজিবাজারে মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রেও কমিশন সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন আর্থিক যন্ত্রের মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ১৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির ৩০৩ কোটি টাকার রাইটস ইস্যু, ১১টি কোম্পানির প্রাইভেট ডেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ৪ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং ১৫টি কোম্পানির সাধারণ, বোনাস ও প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে ১ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাজার শৃঙ্খলা রক্ষায় গত অর্থবছরে কঠোর নজরদারি চালিয়েছে বিএসইসি। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত ২২৬টি অভিযোগের মধ্যে ২২২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অনিয়ম অনুসন্ধানে ৯২টি তদন্ত এবং ৬১০টি পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর ফল হিসেবে ৯৮৭টি এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৭৩ কোটি ২১ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির ৫২৭টি মামলা দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পুঁজিবাজারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে কমিশন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বিতর্কিত সার্কিট ব্রেকার পদ্ধতি বাতিল এবং অধিকাংশ কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। কমিশনের মতে, চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে বাজারচালিত মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা জোরদার করবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।


