রেকর্ড ডেটেও শেয়ার লেনদেন চালুর পথে ডিএসই, বাড়বে তারল্য

সময়: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫ ১১:২২:২৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দেশের শেয়ারবাজারে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। বহুদিন ধরে চলমান রেকর্ড ডেটে শেয়ার লেনদেন বন্ধ রাখার পুরোনো নিয়মটি বাতিল করতে চাইছে সংস্থাটি। এর উদ্দেশ্য হলো শেয়ারবাজারে দক্ষতা বৃদ্ধি, লেনদেনের বাধা কমানো এবং বাজারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।

ডিএসই গত আগস্টে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠায়। সেখানে ডিপোজিটরি (ইউজার) রেগুলেশনস ২০০৩ এবং সেটেলমেন্ট অব ট্রানজেকশনস রেগুলেশনস ২০১৩ সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে রেকর্ড ডেটেও স্পট ট্রেডিং চালু রাখা যায়।

রেকর্ড ডেট কী এবং কেন পরিবর্তন দরকার
বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো কোম্পানির রেকর্ড ডেট হলে সেদিন ওই কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন বন্ধ থাকে। এই তারিখ নির্ধারণ করে কোন শেয়ারহোল্ডাররা বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বা বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং ডিভিডেন্ড, রাইটস কিংবা বোনাস শেয়ার গ্রহণে যোগ্য হবেন।

ডিএসইর নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, রেকর্ড ডেটেও লেনদেন চালু থাকলে বিক্রেতা কর্পোরেট সুবিধা পাবেন, কিন্তু ক্রেতা ওই সুবিধা পাবেন না। এতে লেনদেনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং বাজারের তারল্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে ডিএসই।

আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ
ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, “এই উদ্যোগ শেয়ারবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে। বিশ্বের অন্যান্য বাজারে রেকর্ড ডেটের দিন লেনদেন বন্ধ থাকে না, এটি আসলে একটি প্রযুক্তিগত বিষয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, লেনদেন চালু থাকলে বাজারের তারল্য ও লেনদেনের পরিমাণ বাড়বে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুবিধা
বর্তমানে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৬৫ কোম্পানির কারণে বছরে ৩৬৫ দিন রেকর্ড ডেট পড়ে। তবে বছরে লেনদেন হয় মাত্র ২২০-২২৫ দিন। ফলে একই দিনে একাধিক কোম্পানির লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়, যা বাজারের টার্নওভার কমিয়ে দেয় এবং বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের সুযোগ সীমিত করে।

নতুন ব্যবস্থায় এই সমস্যা দূর হবে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ (সিডিবিএল) ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে, রেকর্ড ডেটে লেনদেন চালু রাখার জন্য তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে। একইসাথে ব্যাক-অফিস ও ওএমএস ভেন্ডররাও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।

বাজারে ইতিবাচক প্রভাব
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রেকর্ড ডেটে লেনদেন চালু হলে বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রম বাড়বে এবং বাজার আরও সক্রিয় হবে। এর ফলে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আন্তর্জাতিক মানের দিকে এগিয়ে যাবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

 

Share
নিউজটি ১৪৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged