নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড গড়ছে, যা বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এই অগ্রগতিতে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই ডিএসই সূচক ৬ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করবে এবং লেনদেন ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজারের এই ইতিবাচক গতি ধরে রাখতে এখনই শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ ৩ আগস্ট (শনিবার) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। সকাল থেকেই টানা ঊর্ধ্বগতির ফলে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক ১০৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৫৪৮ পয়েন্টে পৌঁছায়। দিন শেষে সূচকে কিছুটা স্বাভাবিক উঠানামা দেখা গেলেও সার্বিকভাবে সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
আজকের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯২.৭২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৫৩৬.১৪ পয়েন্টে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ডিএসই সূচক ছিল ৫,৫৮৬.২৮ পয়েন্ট। এছাড়া ডিএসইএস সূচক ২২.৯৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১৯৩.৫৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ৩৬.১০ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ২,১৫০.৪৫ পয়েন্টে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২১৮টির দর বেড়েছে, ১৫২টির দর কমেছে এবং ৫৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
লেনদেনের দিক থেকেও আজ ডিএসইতে রেকর্ড গড়া দেখা গেছে। আজ মোট ১,১৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। উল্লেখযোগ্যভাবে, গতকাল বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১,০৬৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার, ফলে আজ লেনদেন বেড়েছে ৭৪ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট ডিএসইতে সর্বশেষ সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল ১,২৪৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তেও আজ সূচক ও লেনদেন উভয়ই বেড়েছে। সিএসইতে আজ মোট ২০ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সিএসইতে আজ লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৬টির দর বেড়েছে, ৫৮টির দর কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই আজ ২৭০.০৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫,৪৭২.৪৪ পয়েন্টে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে এবং বাজারে নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে। তবে এই গতি ধরে রাখতে হলে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা জরুরি।


