রেজোলিউশন অধ্যাদেশ প্রয়োগ করে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মূলধন ‘শূন্য’ ঘোষণা

সময়: রবিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫ ৮:৩৬:৪১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শরিয়াহভিত্তিক সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এসআইবিএল)-এর ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির ১ হাজার ১৪০ কোটি ১৬ লাখ টাকার সম্পূর্ণ পরিশোধিত মূলধন কমিয়ে ‘শূন্য’ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজোলিউশন বিভাগ গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ‘ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর ৩৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ আদেশ জারি করে। আদেশটির নম্বর BRD/2025-1। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকটির বিদ্যমান মূলধন কাঠামো সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করে নতুনভাবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করা।

আদেশ অনুযায়ী, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ইস্যুকৃত সব শেয়ার বাতিল বলে গণ্য হবে। ফলে ব্যাংকটির সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা শেয়ারগুলোর আর কোনো আর্থিক মূল্য থাকছে না। শেয়ার বাতিল হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যাংকের মালিকানা দাবি করার অধিকারও হারালেন।

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডারদের সব ধরনের অধিকার বিলুপ্ত হয়েছে। এখন থেকে তারা ব্যাংকের কোনো বিষয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে ডিভিডেন্ড গ্রহণ, কোনো দাবি উত্থাপন কিংবা আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও আর থাকছে না। এর মাধ্যমে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান মালিকানা কাঠামো সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে গেল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশটি ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে স্বাক্ষরিত হলেও এটি ৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, ওই তারিখ থেকেই আইনগতভাবে ব্যাংকটির মূলধন ও শেয়ারের অস্তিত্ব আর কার্যকর ছিল না। এই আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডার, পাওনাদার, স্টক এক্সচেঞ্জ কিংবা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।

বর্তমানে নিয়োজিত ব্যাংক প্রশাসককে আরজেএসসি, বিএসইসি, সিডিবিএল এবং সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে মূলধন শূন্য করার তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির সব বিধিবদ্ধ নথিতে শেয়ার বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ব্যাংকটি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্গঠনের নতুন ধাপে প্রবেশ করল।

বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সিদ্ধান্ত হতাশাজনক হলেও সাধারণ গ্রাহক ও আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আমানতকারীদের অধিকার বা ব্যাংকিং সেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে না। ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রেজোলিউশন অ্যাকশন নেওয়ার ক্ষমতা তারা সংরক্ষণ করছে। মূলত গুরুতর আর্থিক অনিয়ম বা গভীর মূলধন সংকটে পড়া ব্যাংককে দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে মূলধন শূন্য করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো।

Share
নিউজটি ৪২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged