নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তৌফিকা ফুডস ও লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার কারসাজি ঠেকাতে তিনটি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টের বিক্রি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিএসইসি একটি চিঠির মাধ্যমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-কে তাৎক্ষণিকভাবে এই নির্দেশনা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। স্থগিতাদেশটি আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
স্থগিত হওয়া বিও অ্যাকাউন্টগুলো হলো: সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট, সিবিসি ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান জুয়াং লিফেং এবং তৌফিকা ফুডস ও লাভেলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান তৌফিকা ইঞ্জিনিয়ারিং। ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই তিনটি অ্যাকাউন্ট মিলে কোম্পানিটির মোট ৭.২৫ শতাংশ বা ৬৭ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৩টি শেয়ার ধারণ করেছে।
বিএসইসি’র মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, তদন্তে এসব বিও অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আগেই যাতে কারসাজির মাধ্যমে অর্জিত শেয়ার বিক্রি করতে না পারে, সে কারণেই বিক্রি স্থগিত করা হয়েছে।”
তদন্তে আরও প্রকাশ পেয়েছে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টগুলোতে নিয়মিত শেয়ার কারসাজি চালানো হয়েছে এবং প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে লেনদেনও রেকর্ড করা হয়েছে। তবে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট তিনটি অ্যাকাউন্টধারী লাভেলো ও তৌফিকা ফুডসের শেয়ার কিনতে পারলেও বিক্রি করতে পারবেন না। অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে তাদের কোনো বাধা থাকবে না।
এই খবর প্রকাশের পর আজ মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ডিএসইতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকা সত্ত্বেও লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ারের দর ৩.১৫ শতাংশ কমে ৯৮ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে আসে।
কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও শেয়ারের দর
গত বছরের জানুয়ারিতে লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ২৯ টাকা ৮০ পয়সা। কয়েক মাসের ব্যবধানে তা প্রায় ২৫৭ শতাংশ বেড়ে যায়। ২০২৫ সালের জুনে শেয়ারের দাম ৭৮ টাকা থেকে বেড়ে ১০৮ টাকায় ওঠে।
২০২৪ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকা রাজস্ব অর্জন করেছে, যা আগের বছরের ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার তুলনায় বেশি। একই সময়ে নিট মুনাফা দাঁড়ায় ১২ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকার তুলনায় উন্নত।
এই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ১ টাকা ৪৩ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫.৩২ শতাংশ বৃদ্ধি। এছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৩৭ পয়সা।
২০২৪ সালে লাভেলো শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ এবং ১০ শতাংশ বোনাস ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল। এর আগের বছর কোম্পানিটি দিয়েছিল কেবল ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে লাভেলো আইসক্রিম আইপিও’র মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে ব্যবসা সম্প্রসারণ শুরু করে। বর্তমানে কোম্পানির মালিকানায় রয়েছে: স্পনসর ও পরিচালক ৩৮.৬৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২৫.২৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারী ৩৬.০৯ শতাংশ।


