নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল খাতের প্রতিষ্ঠান অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বর্তমানে চরম আর্থিক সংকট ও অস্তিত্বের ঝুঁকিতে পড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে নিরীক্ষকরা কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অলটেক্সের পুঞ্জীভূত লোকসান বা নেতিবাচক রিটেইনড আর্নিংস দাঁড়িয়েছে ৮৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ থাকায় ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার ঋণ ‘মন্দ ও ক্ষতি’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা পরিশোধের জন্য কোম্পানির কাছে কোনো কার্যকর তহবিল নেই।
প্রতিবেদনে কোম্পানির ঋণসংক্রান্ত হিসাবেও বড় ধরনের অসঙ্গতি ও তথ্য গোপনের চিত্র উঠে এসেছে। প্রাইম ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী অলটেক্সের প্রকৃত ঋণ ৯৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা হলেও কোম্পানিটি তাদের হিসাবপত্রে দেখিয়েছে মাত্র ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। একইভাবে, সোনালী ব্যাংকের ২২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার ঋণের বিপরীতে প্রায় ২২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার সুদ এবং ওয়ান ব্যাংকের ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সুদ হিসাবভুক্ত করা হয়নি।
এর ফলে কোম্পানিটি প্রকৃত লোকসান ও ঋণের দায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখিয়েছে, যা প্রচলিত অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছেন নিরীক্ষকরা।
অলটেক্সের ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও একাধিক অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা হয়েছে। গত অর্থবছরে পাওনা আদায়ের মোট ৩২ কোটি ৫১ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশই নগদে আদায় করা হয়েছে, যা আধুনিক করপোরেট ব্যবস্থাপনায় উচ্চ ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে কোম্পানির প্রধান কাঁচামাল ‘গ্রে ফেব্রিক’-এর ব্যবহার মোট বিক্রয়ের তুলনায় মাত্র ২১ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল, যা অস্বাভাবিকভাবে কম।
এক সময় রপ্তানিনির্ভর এই প্রতিষ্ঠানটি গত অর্থবছরে কোনো পণ্যই বিদেশে রপ্তানি করতে পারেনি; তাদের সম্পূর্ণ আয় এসেছে স্থানীয় বাজার থেকে। বর্তমানে কোম্পানির মোট তহবিলের প্রায় ৬৯ শতাংশই ঋণনির্ভর, যা অলটেক্সের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে তুলেছে।
এমন সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে বকেয়া ঋণ আদায়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকটি অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের বন্ধক রাখা ১৪ দশমিক ৭ একর জমি, কারখানার ভবন, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।
এছাড়া তিতাস গ্যাসের বকেয়া বিল, কিউব ডেভেলপমেন্টকে দেওয়া অগ্রিমসহ বিভিন্ন খাতে আরও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আর্থিক দায় রয়েছে কোম্পানিটির ওপর। সবকিছু মিলিয়ে ঋণের পাহাড় ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


