নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি প্রসার ও শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) বুধবার (২৯ অক্টোবর ২০২৫) বৈঠক করেন। বৈঠকে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য কোম্পানিগুলোর জন্য তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া, কাঠামো এবং সম্ভাব্য সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ডিএসই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে ডিএসই’র প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, এফসিএস সকলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ডিএসই বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর যাত্রায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কেবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা নয়, বরং আধুনিক, সেবা ও কাস্টমার-সেন্ট্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাইমারি মার্কেটে আইপিও প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল রূপান্তর আনা হচ্ছে। অতীতে যেখানে আইপিও সম্পন্ন হতে দুই-চার বছর লাগত, এখন তা ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই নতুন আইপিও রুলস অনুমোদন পাবে, যা পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব করবে।
ডিএসই একটি সেন্ট্রাল ডিজিটাল সাবমিশন সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো তাদের পিএসআই, শেয়ারহোল্ডিং, ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তনসহ সকল তথ্য এক কেন্দ্রীয় স্থানে জমা দিতে পারবে। দীর্ঘদিন নতুন কোম্পানি লিস্টিংয়ের ঘাটতি বাজারে সরবরাহপক্ষ দুর্বল করেছে। এই পরিস্থিতি কাটাতে ডিএসই গুণগতমানসম্পন্ন নতুন কোম্পানি আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডিএসই’র মেইন বোর্ড, এসএমই বোর্ড ও এটিবি বোর্ড উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করছে, যা ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। এছাড়া, ডেডিকেটেড টিমের মাধ্যমে যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্তিতে সহায়তা প্রদান করা হবে।
ডিএসই’র উপ-মহাব্যবস্থাপক সাঈদ মাহমুদ জুবায়ের প্রেজেন্টেশনে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের কাঠামোগত ওভারভিউ, ডিএসই’র প্রোডাক্ট, ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, তহবিল সংগ্রহ প্রক্রিয়া, মালিকানা হস্তান্তরের তুলনা, তালিকাভুক্তির সুবিধা ও বিভিন্ন বিনিয়োগ বিকল্প তুলে ধরা হয়।
বিসিএমইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ মামুনুর রশিদ, এফসিএমএ বলেন, “ডিএসই’র রূপান্তর যাত্রা সময়োপযোগী ও ইতিবাচক। ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে লিস্টিং প্রক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় বাজারের প্রতি আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইকুইটি ফাইন্যান্সিং এখনও সীমিত, শিল্প বিনিয়োগের প্রায় ৯৮ শতাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা টেকসই পুঁজিবাজার গঠনে বড় বাধা। তিনি আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লিস্টিংয়ের নিয়ম ও কাগজপত্র সংক্ষেপণ এবং কর ও ডিভিডেন্ড নীতিমালা আরও বিনিয়োগবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, কর্পোরেট গভর্নেন্স জোরদার, কমপ্লায়েন্স কস্ট হ্রাস, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিদেশে রোডশো আয়োজন করা উচিত। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে মানসম্মত কোম্পানির লিস্টিং বাড়বে, বাজারে আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন সিরামিক কোম্পানির সিএফও ও কোম্পানি সেক্রেটারি।


