নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে সুশাসন ও কাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত শেয়ারবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং পাবলিক ইস্যু সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে চূড়ান্ত সুপারিশমালা জমা দিয়েছে।
গত ১৯ মে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নিকট এই সুপারিশমালা হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বিএসইসি’র কমিশনার মো. আলী আকবর, টাস্কফোর্স সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, কে এ এম মাজেদুর রহমান এবং সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন উপস্থিত ছিলেন।
মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালার সুপারিশসমূহ:
মেয়াদি ফান্ড অবসায়ন: ট্রাস্ট ডিড অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদ শেষে সকল মেয়াদি (Closed-End) ফান্ডকে অবসায়ন করতে হবে। তবে ইউনিটহোল্ডারদের ৭৫% সম্মতির ভিত্তিতে ফান্ড ওপেন-এন্ডে রূপান্তরযোগ্য। যেসব ফান্ডের মেয়াদ ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে, তাদেরকে ছয় মাসের মধ্যে EGM আহ্বান করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অ্যাসেট বরাদ্দ: গ্রোথ, ব্যালান্সড, শরিয়াহ-ভিত্তিক, ফিক্সড ইনকাম ও মানি মার্কেট ফান্ডের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বাধ্যতামূলক সম্পদ বরাদ্দ নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ।
বিনিয়োগ সীমা বৃদ্ধি: একক শেয়ারে বিনিয়োগ সীমা ১০% থেকে বাড়িয়ে ১৫% এবং একক খাতে সীমা ২৫% থেকে ৩০% করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত নয় এমন ইক্যুইটি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ নিষিদ্ধ; তবে ‘A’ ক্যাটাগরির মেইন বোর্ড তালিকাভুক্ত কোম্পানির বন্ড/প্রেফারেন্স শেয়ারে বিনিয়োগ করা যাবে।
ব্যয় অনুপাত সীমা: ফান্ডের বার্ষিক ব্যয় অনুপাত সর্বোচ্চ ৩% এবং ফিক্সড ইনকাম বা মানি মার্কেট ফান্ডের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২% নির্ধারণ।
লভ্যাংশ নীতিমালা: মেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে বছরে অর্জিত লাভের কমপক্ষে ৭০% লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ বাধ্যতামূলক। ওপেন-এন্ড ফান্ডে প্রতি ইউনিটে অর্জিত লাভ বা গড় আয় — যেটি কম — তার অন্তত ৩০% লভ্যাংশ দিতে হবে।
পাবলিক ইস্যু রুলস সংশোধনে সুপারিশ:
আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন: স্টক এক্সচেঞ্জ প্রাথমিক অনুমোদন দেবে এবং বিএসইসি তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করবে।
নিরীক্ষক মানদণ্ড নির্ধারণ: আইপিওতে কাজ করা নিরীক্ষকদের ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ মানদণ্ড সুপারিশ করা হয়েছে, যার ফলে নিরীক্ষার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।
ভ্যালুয়েশন মডেল: সুশৃঙ্খল প্রাইসিং মডেল চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে তালিকাভুক্তির জন্য আগ্রহী কোম্পানিগুলোর ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ নিশ্চিত হয়।
ইস্যু ম্যানেজারদের দায়বদ্ধতা: আইপিও প্রক্রিয়ায় ইস্যু ম্যানেজারদের ভূমিকা ও দায়দায়িত্ব স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
কর্পোরেট গভর্নেন্স: ইস্যুয়ার কোম্পানিতে কর্পোরেট গভর্নেন্স নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা পায়।
বিএসইসি জানিয়েছে, সুপারিশমালার আলোকে আইনি সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কমিশন।


