নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে চলমান ইতিবাচক ধারায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা ও প্রত্যাশা জাগ্রত হয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মঙ্গলবার (২৪ জুন) দেশের দুই শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। লেনদেনের শুরু থেকেই সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী, যা দিনের শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীলভাবে বজায় ছিল। বাজার সংশ্লিষ্টরা এটিকে একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) – উভয় বাজারেই সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষ করে সিএসইতে লেনদেন প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিএসইর লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এদিন প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২.৬২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৭১৭.৬৫ পয়েন্টে। ডিএসইএস সূচক ৭.০৬ পয়েন্ট বেড়ে ১,০৩১.০১ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮.৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ১,৭৭১.৫১ পয়েন্টে পৌঁছায়।
ডিএসইতে মোট ৪০১টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৩৬টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৯২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৩টি। ডিএসইতে মোট ৩৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৯৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা বেশি।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ২৯ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন এই লেনদেন ছিল ১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ, একদিনেই লেনদেন বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। সিএসইতে ১৯৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ১১৭টির দাম বেড়েছে, ৪৮টির কমেছে এবং ৩২টির পরিবর্তন হয়নি।
সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৯৯.৩৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩,২১১.৪০ পয়েন্টে। আগের দিন এ সূচক ২৪.৯৯ পয়েন্ট বেড়েছিল।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক ইতিবাচকতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, বাজার যেন মাঝপথে স্থবিরতায় না পড়ে সেজন্য বিএসইসি, ডিএসই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, বাজারে উত্থান-পতন একটি স্বাভাবিক চক্র। তবে তা যেন টানা পতনে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে তীক্ষ্ণ নজরদারি জরুরি। বাজারের সাম্প্রতিক চিত্র যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে বাজারে আরও গতি আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশ্লেষকরা।


