দেশের শেয়ারবাজারে যখন দরপতন হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। অথচ সে সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কিংবা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে কার্যকর কোনো সতর্কবার্তা বা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় না। বিনিয়োগকারীরা একরকম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটান।
অপরদিকে বাজারে যখন সামান্য উত্থান হয়, তখন বিনিয়োগকারীদের নানান প্রশ্ন ও জবাবের মুখোমুখি হতে হয়। কেন কিনছেন, কী উদ্দেশ্যে কিনছেন—এসব বিষয়ে একের পর এক কয়ারি ফোন আসে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েন।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, সরকারের প্রতিনিধিগণ অতীতে যেমন এ ধরনের প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছেন, এখনও ঠিক একইভাবে তা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে বাজারে আস্থার পরিবর্তে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক আরও বাড়ছে।
এছাড়া বাজারে আয়ের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। শেয়ারবাজার থেকে যদি কোনো বিনিয়োগকারী ৫০ লক্ষ টাকার বেশি মুনাফা করেন, তাহলে তাকে উচ্চ কর প্রদান করতে হয়। অথচ বিপরীতে যারা ৫০ লক্ষ টাকা কিংবা তারও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হন, তাদের জন্য কোনো প্রণোদনা, কর-ছাড় বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেই। বিনিয়োগকারীদের মতে, লাভের ক্ষেত্রে যেমন কর আরোপ হয়, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্যও সহায়তার উদ্যোগ থাকা উচিত।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু প্রশ্ন তোলা নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, নীতিগত স্বচ্ছতা ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তা না হলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে না এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়বেন।
শাস্তির পাশাপাশি প্রণোদনার প্রয়োজনীয়তা :
অনিয়মে জরিমানা, তবে ভালো পারফরম্যান্সেও প্রণোদনার দাবি।
শেয়ারবাজারে অনিয়ম ধরা পড়লে কোম্পানিগুলো ও ব্যক্তিবর্গ কে জরিমানা করা হচ্ছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে কেবল শাস্তিই যথেষ্ট নয়। যারা নিয়ম মেনে স্বচ্ছতা বজায় রেখে ভালো পারফরম্যান্স করছে, তাদেরও ইনসেন্টিভ বা প্রণোদনা দেওয়া জরুরি।
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অনিয়ম বা তথ্য গোপন করলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, জরিমানা ধার্য করা হচ্ছে এবং কখনও কখনও ট্রেডিংয়ে বিধিনিষেধও আরোপ করা হচ্ছে। তবে যারা সঠিক তথ্য প্রকাশ করছে, নিয়মিত ডিভিডেন্ড দিচ্ছে এবং ভালো আর্থিক ফলাফল দেখাচ্ছে, তাদের জন্য কোনো অতিরিক্ত সুবিধা বা স্বীকৃতি নেই।
বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, শেয়ারবাজারকে ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই করতে হলে উভয় দিকেই নজর দেওয়া জরুরি। শুধু শাস্তি নয়, বরং ভালো কোম্পানিগুলোকে কর-ছাড়, বিশেষ স্বীকৃতি বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়া উচিত। এতে যেমন কোম্পানিগুলো উৎসাহিত হবে, তেমনি বিনিয়োগকারীরাও আস্থা নিয়ে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নত বাজারে শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করার ব্যবস্থা থাকে। বাংলাদেশেও এ ধরনের সংস্কৃতি চালু করা গেলে বাজারে প্রতিযোগিতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে।
বাজারে স্থিতিশীলতার পরিবর্তে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এক্ষেত্রে দরপতনের সময় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া, সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল দায়িত্ব।


