সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন

শেয়ারবাজারে সতর্ক বিনিয়োগকারীদের পদচারণা: কমেছে লেনদেন, বাড়ছে আশাবাদ

সময়: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৩:৫৩:১৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা এখন অনেক বেশি সতর্ক। নিজেদের পুঁজি সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি মুনাফার হিসাব কষে তারা লেনদেন করছেন। এই সতর্কতার কারণে বাজারে লেনদেনের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অতীতে লোকসানের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখন ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে শেয়ার কেনাবেচা করছেন—যা বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত।

বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক প্রচেষ্টায় শেয়ারবাজার স্থিতিশীল হয় না; হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও সচেতনভাবে লেনদেন করতে হবে। বাজারে উত্থান দেখা দিলেই না যাচাই করে শেয়ার কিনলে বিনিয়োগের ঝুঁকি বাড়ে। আবার পতনের সময় আতঙ্কিত হয়ে হasty বিক্রি করলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বরং দরপতনের সময় কম দামে শেয়ার বিক্রি না করে কিনে রাখা উচিত। কিন্তু অনেকেই তা করেন না, ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। তাই শেয়ার কেনা বা বিক্রির আগে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া জরুরি।

বিনিয়োগকারীদের মতে, তারা সচেতন না হলে বাজার কখনোই স্থিতিশীল হবে না। এজন্য পুঁজিবাজার সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। গুজবে কান না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির তথ্য জেনে শেয়ারে বিনিয়োগ করা উচিত। কোনো কোম্পানির শেয়ারের দর কেন বাড়ল বা কমল—তা যাচাই করা কর্তব্য। তবে ভালো কোম্পানিতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে পুঁজি সুরক্ষিত থাকে এবং মুনাফাও পাওয়া যায়।

এদিকে আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) সূচকে সামান্য পতন দেখা গেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর হ্রাস পেয়েছে।

আজকের বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা সতর্কতার সঙ্গেই লেনদেন করছেন এবং বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন—যা বাজারের জন্য ইতিবাচক। যাদের কাছে পর্যাপ্ত অলস টাকা রয়েছে, তারা যদি জুন ক্লোজিং হওয়া ভালো শেয়ার কিনে নেন, তাহলে খুব শিগগিরই ভালো মুনাফা পাবেন। তাই আতঙ্কিত না হয়ে যাচাই-বাছাই করে জুন ক্লোজিং হওয়া ভালো কোম্পানির শেয়ার কেনা উচিত। কারণ সাম্প্রতিক ধারাবাহিক দরপতনে অনেক শেয়ার এখন বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত অনুকূল অবস্থানে রয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা এবং বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে নানা ধরনের সেমিনার আয়োজন করা, যাতে তারা বাজার সম্পর্কে যথাযথ ধারণা পায়।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১.৪৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫২৪.৩৬ পয়েন্টে। অন্যদিকে ডিএসইএস সূচক ২.১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৮.০৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩.২৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৪.৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪২টির দর বেড়েছে, ১৭৮টির দর কমেছে এবং ৭৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে আজ প্রায় ৬৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ১১১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ২৫ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৭০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৬৬টির, কমেছে ৮২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টির।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫.০২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৭২.৭৩ পয়েন্টে। আগের দিন সূচকটি ৫.৫৫ পয়েন্ট কমেছিল।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged