নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরেই দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী করার জন্য এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মধ্যে অন্তত দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাজারে আসবে, আর আগামী এক বছরের মধ্যে ১০টি সরকারি কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা হবে। এই উদ্যোগ বাজারের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রধান উপদেষ্টা গত মে মাসে শেয়ারবাজার সংস্কারের জন্য পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যার প্রথম শর্তই ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে হবে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই ডিএসই একাধিক বৈঠক করেছে এবং সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
ডিএসই জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ইউনিলিভার বাংলাদেশ, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো), সাইনোভিয়া, নোভার্টিস, সিনজেন্টা, নেসলে বাংলাদেশ, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এবং জীবন বীমা কর্পোরেশনসহ প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া, অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। একইভাবে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির সঙ্গেও প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কোম্পানির তালিকাভুক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে, একইসঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে। এতে বাজারে তারল্য বৃদ্ধি, আস্থা ফেরানো এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল নতুন কোম্পানি আনা নয়, নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং সুশাসন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে শেয়ারবাজারে মাত্র ২০টি সরকারি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে, যা মোট বাজার মূলধনের মাত্র ৭.৮১%। সর্বশেষ ২০১২ সালে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বাজারে এসেছে। এই নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


