শেয়ারবাজারে সুদিন ফিরবে কি? নতুন আইপিও বিধিমালা কার্যকর

সময়: রবিবার, জানুয়ারি ৪, ২০২৬ ৮:০২:১০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে ভালো মানের কোম্পানি ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশিত নতুন আইপিও বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ৩০ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং প্রকাশের সাথে সাথেই এটি কার্যকর হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে তারা আইপিও আবেদনের প্রাথমিক অনুমোদন দিবে, এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে বিএসইসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাজারে আসতে আগ্রহী কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হতে হবে ৩০ কোটি টাকা এবং আইপিও-পরবর্তী শেয়ারের অন্তত ১০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মুক্ত রাখতে হবে। এছাড়া আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার ৫ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, মিউচুয়াল ফান্ড এবং মার্জিন রুলস সংস্কারের পর আইপিও বিধিমালা সংশোধন করা ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

ভালো মানের কোম্পানি বাজারে আনার লক্ষ্যে গত এক বছর ধরে বিএসইসি চেষ্টা চালালেও কোনো বড় মাল্টিন্যাশনাল বা সরকারি প্রতিষ্ঠান এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, একটি মানসম্মত কোম্পানিই বাজারের চিত্র বদলে দিতে পারে। যেমন, স্কয়ার ফার্মা বা গ্রামীণফোনের আগমনে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু বর্তমান কমিশন এক বছরে কোনো মানসম্পন্ন কোম্পানি বাজারে আনতে পারেনি।

বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সরকারি ১৮টি কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সচিবদের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বড় কোম্পানির আইপিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। জানা গেছে, আইসিবি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১,২০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনেছে এবং বর্তমানে ঋণের ওপর নির্ভরশীল। তবে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, অতীতের দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগের কারণে লোকসান হলেও এখন মানসম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলে যাবে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বড় কোনো আইপিও আসার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, “ভারতের তো কথা আলাদা, আমরা সুশাসনের দিক থেকে পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার চেয়েও পিছিয়ে। সুশাসন নিশ্চিত না হলে ভালো কোম্পানি বাজারে আসতে আগ্রহী হবে না।”

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিধিমালা কারসাজি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে এটি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াকে কিছুটা জটিল করেছে। তবু দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই সংস্কার অপরিহার্য ছিল।

Share
নিউজটি ২৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged