শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আইসিবি-কে এক হাজার কোটি টাকার সহায়তা দিচ্ছে সরকার

সময়: রবিবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৫ ১:৪০:৪৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘমেয়াদি পতন ও তারল্য সংকটে নড়বড়ে হয়ে পড়া শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সরকার বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে ১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে সরকার।

এই তহবিল সহায়তা আসতে পারে সংশোধিত জাতীয় বাজেটের আওতায়, এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও নীতিনির্ধারকরা আলোচনা করেছেন।

?️ অর্থ মন্ত্রণালয়ে আলোচনায় আইসিবি তহবিল
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, অর্থ উপদেষ্টা ও শীর্ষ কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন সফর থেকে দেশে ফেরার পর আইসিবি তহবিল অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ ব্যাংক হিসেবে আইসিবি এফডিআর, বন্ড ও শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করে থাকে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আইসিবি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে (এফআইডি) সহায়তার আবেদন জানায়।
পরে এফআইডি সেই অনুরোধ অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রেরণ করে।

? এফআইডি’র সুপারিশ: ১০ বছরে ১৩ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব
গত মাসে এফআইডি লিখিতভাবে প্রস্তাব দেয় যে, আইসিবি-কে ১৩ হাজার কোটি টাকা ১০ বছরের জন্য (দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ) স্বল্প সুদে দেওয়া হোক।

তাদের যুক্তি ছিল, “আইসিবি শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে তীব্র তারল্য সংকটে রয়েছে।”

২০১০ সাল থেকে আইসিবি এফডিআর ও বন্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
তবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মূল অর্থ ও সুদসহ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার পরিশোধ সময়সীমা পেরিয়ে গেছে।
এর পাশাপাশি প্রতি মাসে ৯০ কোটি টাকা সুদ পরিশোধের চাপ বহন করছে আইসিবি।

? তারল্য সংকটে ন্যাশনাল টি শেয়ার ক্রয়
তারল্য সংকটের মধ্যেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আইসিবি সম্প্রতি ৮০ কোটি টাকায় ন্যাশনাল টি কোম্পানির ৬৬ লাখ শেয়ার ক্রয় করেছে।
এফআইডি মনে করছে, এই ক্রয় কার্যক্রম আইসিবি-র তারল্য সংকট আরও গভীর করেছে।

? বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইসিবি-কে সরাসরি অর্থ সহায়তার প্রস্তাবটি নাকচ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে,

“এই ধরনের তহবিল সরবরাহ দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এফআইডি-কে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছে,
এই ধরণের সহায়তা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, দীর্ঘ মেয়াদে এই ঋণ দেওয়া সংকুলানমূলক মুদ্রানীতির পরিপন্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এরও লঙ্ঘন হতে পারে।

তবে তারা বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে যে, “আইসিবি যেন সংশোধিত বাজেটের আওতায় সরকারি তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করে,”
যা মূল্যস্ফীতিতে তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব ফেলবে।

? শেয়ারবাজারে পতন: দ্রুত বিনিয়োগের সুযোগ দেখছে আইসিবি
আইসিবি জানিয়েছে, বর্তমানে শেয়ারবাজার নিম্নমুখী ধারায় থাকায়, সরকারি তহবিল পাওয়া গেলে কম দামে শেয়ার কিনে দ্রুত মূলধনী লাভ করা সম্ভব হবে।

গত ৩০ দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ৫১২ পয়েন্ট বা প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে।
ফলে বড় আকারের তহবিল আইসিবি’র মাধ্যমে বিনিয়োগ করা গেলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

? গত বছরের সহায়তা ও লাভ
গত বছর সরকার সার্বভৌম গ্যারান্টির আওতায় আইসিবি-কে ৩ হাজার কোটি টাকার সহায়তা দিয়েছিল।
এর মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ পরিশোধে এবং বাকি ১ হাজার কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে ব্যবহার হয়।
আইসিবি কর্মকর্তাদের দাবি,

“সে বিনিয়োগ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ মূলধনী লাভ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।”

? সারসংক্ষেপে
? আইসিবি-কে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল সহায়তা বিবেচনায়
? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি ও বাজেটভিত্তিক বিকল্প প্রস্তাব
? আইসিবি’র ১৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ দায়
? ৬ হাজার কোটি টাকার পরিশোধ বিলম্ব
? শেয়ারবাজারে পতনের প্রেক্ষাপটে সরকারি তৎপরতা

 

Share
নিউজটি ১০০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged