নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের পর টানা ঊর্ধ্বগতির পর কিছুটা স্বাভাবিক দর সংশোধনের মধ্য দিয়ে দিন পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। আজ সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস (২৮ জুলাই) দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচকের পতন ও লেনদেন কমেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বাজারের স্বাভাবিক প্রবণতা। ফলে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনভাবে লেনদেনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দিন শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও পরে তা ধীরে ধীরে নেমে আসে। বেলা ১১টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়ে ৫ হাজার ৪৮৬ পয়েন্টে পৌঁছায়। এরপর একটানা দরপতনের ধারায় দিন শেষে সূচক কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩৩২.০৬ পয়েন্টে, যা আগের দিনের চেয়ে ২২.৭৬ পয়েন্ট কম।
সূচকের পাশাপাশি কমেছে ডিএসইর লেনদেনের পরিমাণও। আজ ডিএসইতে মোট ৮০৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৬৫ কোটি ৪ লাখ টাকার।
সূচকের পারফরম্যান্সের দিক থেকে আজ ডিএসইএস সূচক ৬.১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৮.৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ৩.৫৯ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৬১.৭৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১১৯টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে, ২৩০টি কমেছে এবং ৪৮টি অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ৬ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ১০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সিএসইতে আজ লেনদেন হওয়া ২২৬টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ১০৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির। সূচক সিএএসপিআই ৪৭.০৩ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৯১৭.১৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা দরবৃদ্ধির পর স্বাভাবিকভাবে কিছুটা মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়, যা দর সংশোধনে ভূমিকা রাখে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে বিনিয়োগকারীদের সচেতন ও তথ্যভিত্তিক লেনদেনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা। তাদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে এবং সামনের দিনে সূচকের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।


