শেয়ারবাজার পুনরুদ্ধারে ব্রোকারদের জরুরি প্রণোদনার দাবি

সময়: সোমবার, মে ১৯, ২০২৫ ১:২৪:৪৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি মন্দা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা দূর করতে দ্রুত, সাহসী ও কার্যকর প্রণোদনা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর নেতারা। তারা বলছেন, কাগজে-কলমে সংস্কারের পরিবর্তে বাস্তবমুখী এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপই বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।

রোববার (১৮ মে) ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই দাবি ওঠে। সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল)-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয় যখন টানা দরপতনের কারণে হতাশ বিনিয়োগকারীরা প্রতিবাদে নামছেন। কিছু বিনিয়োগকারী কফিন ও জানাজার কাফনের মতো প্রতীক ব্যবহার করে বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন।

সভায় ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বাজার পরিস্থিতির বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, মূলধন ও অর্থবাজারের দুর্বল সমন্বয়, আইপিও প্রক্রিয়ার ধীরগতি, বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড ব্যবস্থার অকার্যকারিতা, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে স্বচ্ছতার অভাব এবং অভ্যন্তরীণ লেনদেন ও দুর্বল তদারকিসহ একাধিক কাঠামোগত সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়েছে।

বাজার পুনরুদ্ধারে মমিনুল ইসলাম স্বল্পমেয়াদি ত্রাণ ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের সমন্বয়ে একটি বিস্তৃত প্যাকেজ প্রস্তাব করেন। তিনি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে কর ও ফি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রণোদনা দাবি করেন, যার মধ্যে রয়েছে বার্ষিক বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি বাতিল, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের জন্য মূলধন লাভ কর থেকে অব্যাহতি, ব্রোকারেজ কমিশন হ্রাস (০.৫০% থেকে ০.৩৫%), ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ডিভিডেন্ড আয় করমুক্ত ঘোষণা এবং উৎসে করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গ্রহণ।

তিনি নেতিবাচক ইক্যুইটির বোঝা কমানো, প্রতি ১ লাখ টাকার লেনদেনে অগ্রিম আয়কর ৫০ টাকা থেকে ১৫ টাকা করার পাশাপাশি ব্রোকারদের একীভূত গ্রাহক অ্যাকাউন্ট থেকে ৭৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড ব্যবহারের অনুমতিও প্রস্তাব করেন। অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে রাখা হবে।

মমিনুল ইসলাম আরও বলেন, তালিকাভুক্ত ও অনালিখিত কোম্পানির কর ব্যবধান ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা, ৫০০ কোটি টাকার বেশি দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য মূলধন বাজার থেকে অর্থায়ন বাধ্যতামূলক করা এবং সম্পদ-সমর্থিত কর্পোরেট বন্ডের রিটার্ন করমুক্ত রাখার প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে আইপিও ও বন্ড ইস্যু প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করা হবে। তিনি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও শক্তিশালী দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। এছাড়া সব বাজার-সম্পর্কিত কমিটিতে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার পুঁজিবাজার সংকট সমাধানে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও অর্থনীতির পুনরুদ্ধার লক্ষণ দেখা গেলেও বাজারে তা প্রতিফলিত হতে কিছুটা সময় লাগবে। তিনি জানান, বিএসইসি ইতোমধ্যে পাবলিক ইস্যু নীতিমালা সংস্কার ও ভালো পারফরম্যান্স করা কোম্পানিগুলোর তালিকা নিশ্চিতকরণের কাজ শুরু করেছে।

ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, শুধু খুচরা বিনিয়োগকারী নয়, ব্রোকারেজ হাউসগুলোও বর্তমানে তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব বাজেট প্রণয়ন, বিও হিসাব ফি হ্রাস, অগ্রিম আয়কর বাতিলসহ তাৎক্ষণিক ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত ছাড়া বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন।

Share
নিউজটি ১৮৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged