শেয়ারবাজার সংস্কারে এনসিপির ১১ দফা সুপারিশ

সময়: শনিবার, মে ১০, ২০২৫ ৬:০৮:১০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, শেয়ারবাজারের চলমান সংকট ও সম্ভাবনা বিবেচনায় ১১ দফা সুপারিশ দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (১০ মে) বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়।

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, “বর্তমানে বাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা আস্থার অভাব। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বিএসইসি, ডিএসই ও ব্রোকারদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করতে হবে।” তিনি সবাইকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংকট উত্তরণে কাজ করার আহ্বান জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরা ১১ দফা সুপারিশ হলো:

১. শেয়ার ক্যাটাগরি নির্ধারণে শুধু ডিভিডেন্ড নয়, দেউলিয়াত্ব ও এজিএম না করার মতো বিষয়কেও বিবেচনায় নিতে হবে।

২. ক্যাপিটাল গেইন ও ডিভিডেন্ড ইনকামে দ্বৈত কর পরিহার এবং করের হার যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে হবে।

৩. মাল্টি ফান্ড বাধ্যতামূলক পেশাদার ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা, অপব্যবহার হলে ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ও ডিভিডেন্ডে কর ছাড় দিতে হবে।

৪. তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারে পার্থক্য বাড়াতে হবে, যাতে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহ বাড়ে।

৫. অ্যাসেট ব্যাকড সিকিউরিটিজে কর মুক্তির মাধ্যমে বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে।

৬. ঋণ আদালত আইন ও দেউলিয়াত্ব আইন সংস্কার করে ব্যাংক ও কর্পোরেট রিকভারি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে।

৭. কারেন্সি ট্রেডিং ও শর্ট সেল চালু করে বাজারে তরলতা বাড়ানো ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

৮. প্রভিডেন্ট, পেনশন, সোভারেইন ওয়েলথ ফান্ডসহ বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের কর কাঠামো স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করতে হবে।

৯. ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে তুলে দিতে হবে, যা বাজারের স্বাভাবিক গতির পরিপন্থী।

১০. দেশীয় বিনিয়োগ সম্মেলনের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হবে।

১১. বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বচ্ছ ও নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনটি মনে করে, এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

Share
নিউজটি ১৮৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged