শেয়ার কেলেঙ্কারিতে ২০ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম: লোটাস কামাল ও ঘনিষ্ঠরা অভিযুক্ত

সময়: মঙ্গলবার, জুলাই ১, ২০২৫ ১২:২৪:০২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০০৯-১০ সালের ভয়াবহ শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি আজও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। সেই সময় অগণিত বিনিয়োগকারী তাদের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রয়াত ব্যাংকার খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে—শেয়ারবাজারে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দরবৃদ্ধির কারসাজিতে জড়িত ছিলেন। প্রতিবেদনে প্রাক্তন পরিকল্পনামন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ লোটাস কামাল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। তবে এত বড় অনিয়মের পরও এখনও আইনি কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।

তদন্ত অনুযায়ী, তৎকালীন অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে লোটাস কামাল বিভিন্ন লোকসানি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়াতে প্রভাব খাটান এবং আর্থিক তথ্য গোপন রেখে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ প্রভাবে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী লাভবান হন।

একই তদন্তে সাবেক এমপি আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ত তালিকাভুক্ত কোম্পানি সিএমসি কামাল টেক্সটাইল-এর নামও উঠে আসে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোম্পানিটি লোকসানি থাকা সত্ত্বেও তার শেয়ারমূল্য ১৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই বৃদ্ধি ঘটেছে স্টক ডিভিডেন্ড, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন ও রাইট শেয়ার ইস্যুর ঘোষণার মাধ্যমে। যদিও মুস্তফা কামাল দাবি করেন, তিনি কেবল স্টক ডিভিডেন্ডের শেয়ারই বিক্রি করেছেন।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অনাস্থার জন্ম নেয়। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেয়ারবাজারে অনিয়মের সংস্কৃতি আরও দৃঢ় হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে সুপারিশ করা হলেও এখনও পর্যন্ত কারসাজিতে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বাজারে আবারও অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি, কারসাজি ও লুটপাটের সংস্কৃতি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অতীতের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনানুগ বিচার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি, বিএসইসি, ডিএসই ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

? উপসংহার:
শেয়ারবাজারে স্থায়ী স্বচ্ছতা ও সুশাসন আনতে হলে পুরনো কেলেঙ্কারির সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া বিকল্প নেই—এমনটাই মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

Share
নিউজটি ২২১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged