শেয়ার-বন্ড বিনিয়োগে প্রভিশনিং জোরদার করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

সময়: বুধবার, জুলাই ৯, ২০২৫ ২:০৩:৩৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ঝুঁকি কমাতে এবং আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে শেয়ার, ইক্যুইটি, বন্ড, ডিবেঞ্চার, মিউচুয়াল ফান্ড ও বাণিজ্যিক কাগজে বিনিয়োগের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ঋণের ক্ষেত্রেও এবার কঠোর প্রভিশনিং করতে হবে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফআই)।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিনিয়োগের ধরন ও ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রভিশনিং করতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিক থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে এবং ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

এর আগে শুধুমাত্র ঋণ শ্রেণিকরণের ভিত্তিতেই এনবিএফআইগুলো প্রভিশন করত। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন নীতিমালায় শেয়ারবাজার ও অন্যান্য বিনিয়োগ খাতে সৃষ্ট ক্ষতির বিপরীতেও প্রভিশন করতে হবে। ব্যাংকার ও বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বিনিয়োগ ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো হলো—

✅ তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বিনিয়োগ: বাজার মূল্য যদি ক্রয় মূল্যের নিচে নেমে যায়, সেই ক্ষতিকে ‘বিনিয়োগ ক্ষতি’ ধরে প্রভিশন করতে হবে।

✅ অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ: শেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে উল্লিখিত নিট সম্পদ মূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। যদি তা ক্রয় মূল্যের চেয়ে কম হয়, পার্থক্যটুকু ক্ষতি ধরে প্রভিশন করতে হবে।

✅ টানা তিন বছর নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী না থাকা বা টানা তিন বছর অলাভজনক কোম্পানিতে বিনিয়োগ: এ ধরনের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ প্রভিশন করতে হবে।

✅ অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির অ-রূপান্তরযোগ্য অগ্রাধিকার শেয়ার, বন্ড বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ: এক বছর সুদ/লভ্যাংশ না পেলে ২৫%, দুই বছর পর ৫০%, তিন বছর পর ১০০% এবং মেয়াদপূর্তির পর মূলধন ফেরত না পেলে বিনিয়োগের ১০০% প্রভিশন করতে হবে।

✅ ডিভিডেন্ড স্বীকৃতি: নগদ লভ্যাংশ হাতে পাওয়ার আগে আয় হিসেবে দেখানো যাবে না।

✅ মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ: “আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাণিজ্যিক কাগজ সংক্রান্ত নির্দেশিকা” অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার জারি করা সার্কুলারে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং নির্দিষ্ট বিন্যাসে প্রতিবেদন দিতে বলেছে। এই উদ্যোগ বাজারে স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share
নিউজটি ১৪০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged