নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) সূচকের সামান্য পতনের মধ্য দিয়ে শেয়ারবাজারে সপ্তাহের লেনদেন শেষ হয়েছে। দিনের শুরুতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত বাজারে স্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা যায়। তবে এরপর ধীরে ধীরে সূচক নিম্নমুখী হতে থাকে এবং দিনশেষ পর্যন্ত সেই প্রবণতা অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত সূচক কিছুটা কমলেও আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে শেয়ারবাজারে লেনদেন কিছুটা ঢিলেঢালা অবস্থায় রয়েছে। তবে আজকের বাজার পরিস্থিতি শুরু থেকেই স্বাভাবিক ছিল। সূচকের যে পরিমাণ পতন হয়েছে, তাতে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই বলেও তারা মনে করছেন।
তারা আরও জানান, আগামী দিনে শেয়ারবাজার পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে—এ বিষয়ে তারা আশাবাদী। তবে নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাই হবে উত্তম কৌশল। পাশাপাশি পর্যাপ্ত অলস পুঁজি থাকলে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার কিনে ভবিষ্যতে ভালো মুনাফা অর্জনের সুযোগ রয়েছে বলেও মত দেন তারা।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭.৫২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৫৮.৯৮ পয়েন্টে। এদিন শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১.৯৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯৯৫.৯২ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ ৪.৫০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯১২.৭১ পয়েন্টে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০২টির শেয়ার দর বেড়েছে, ২২০টির দর কমেছে এবং ৬৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
ডিএসইতে এদিন মোট ৩৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ৩৬৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা বেশি।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন এই বাজারে লেনদেন হয়েছিল ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
সিএসইতে আজ লেনদেন হওয়া ১৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬১টির দর বেড়েছে, ৭৮টির দর কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮.৫৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৮৩.৬৭ পয়েন্টে। আগের দিন এই সূচক ৩০.০৯ পয়েন্ট বেড়েছিল।


