নিজস্ব প্রতিবেদক : সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫০.৬৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫২৩৩.৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এর মাধ্যমে সপ্তাহের মধ্যবর্তী তিন কার্যদিবসের পতনের পর বাজারে এক ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে।
ডিএসইর অন্যান্য সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বেড়েছে ৬.০২ পয়েন্ট এবং ডিএস৩০ বেড়েছে ২১.১৮ পয়েন্ট।
লেনদেনের দিক থেকে দিনটি তুলনামূলক সক্রিয় ছিল। এদিন ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ৯২ হাজার ৯৫১টি শেয়ার ২ লাখ ৮৪ হাজার ০১ বার হাতবদল হয়, যার বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭৮ কোটি ৩২ লাখট টাকা।
শেয়ার দর ওঠানামার চিত্র
দিন শেষে ডিএসইতে ৪০১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২২টির দর বেড়েছে, ৫৪টির দর কমেছে এবং ৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে।
সূচক প্রবণতার গ্রাফ বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিনের শুরুতেই সামান্য উত্থান হলেও দুপুর পর্যন্ত বাজার কিছুটা মিশ্র প্রবণতায় ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচক দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় এবং শেষ ঘণ্টাগুলোতে শক্তিশালী উত্থান বজায় রাখে।
আগের দিনের তুলনা
এর আগের দিন বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ডিএসইএক্স বড় ধসের মুখে পড়ে ১১৭.৫৪ পয়েন্ট কমে ৫১৭৩.১৫ পয়েন্টে নেমে গিয়েছিল। একই দিনে ডিএসইএস কমেছিল ১৫.৭৫ পয়েন্ট এবং ডিএস৩০ কমেছিল ২২.৮৫ পয়েন্ট। সেই তুলনায় বৃহস্পতিবারের বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে দেখা গেছে।
চলতি সপ্তাহে বাজারে ওঠানামা থাকলেও সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের ইতিবাচক প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক সংকেত দিয়েছে। সূচক, লেনদেন ও দরবৃদ্ধি সব দিক থেকেই বৃহস্পতিবারের বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
এদিকে, পতনের পরদিন ঘুরে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দিন শেষে সবকটি প্রধান সূচক বেড়েছে। এর বিপরীতে আগের কার্যদিবস বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সূচক ও লেনদেন ছিল নিম্নমুখী।
সূচক প্রবণতা
১১ সেপ্টেম্বরের বাজারে সিএএসপিআই সূচক ৯১.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৫,৫১৯.০৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, যা আগের দিনের ১৫,৪২৭.৪৮ পয়েন্ট থেকে উত্থান নির্দেশ করে। অন্যদিকে ১০ সেপ্টেম্বর সূচকটি ১৪৩.১০ পয়েন্ট কমেছিল।
একই দিন সিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ১৩৫.৪৬ পয়েন্ট এবং দাঁড়িয়েছে ১৩,৬৩৫.২২ পয়েন্টে, যেখানে আগের দিন এটি কমে দাঁড়িয়েছিল ১৩,৪৯৯.৭৫ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসসিএক্স সূচক বেড়েছে ৫৭.০৩ পয়েন্ট, সি এস ই-৫০ বেঞ্চমার্ক সূচক বেড়েছে ৯.১৮ পয়েন্ট, এবং শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ১.৯৫ পয়েন্ট। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, এসএমই সূচক ২৭.৬৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৯৭০.৮১ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা তুলনামূলক শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করছে।
লেনদেন পরিস্থিতি
দিন শেষে সিএসইতে ১৯৫টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়, যার মধ্যে ১০১টির দর বেড়েছে, ৭৮টির দর কমেছে এবং ১৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৭.৬২ কোটি টাকা, যা আগের দিনের ২৪৪.৬১ কোটি টাকার তুলনায় কম।
লেনদেনের ভলিউমও কমে ২২.৮৪ লাখ শেয়ারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগের দিন ছিল ৩৪.৯১ লাখ শেয়ার।
সার্বিক চিত্র
সংক্ষেপে বলা যায়, ১০ সেপ্টেম্বরের বড় ধরনের পতনের পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর বাজারে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। সূচক ও বাজার মূলধনে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষণীয় হলেও, টার্নওভার ও লেনদেনের ভলিউম কিছুটা কমেছে। এটি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান নির্দেশ করে, তবে বাজারের মৌলিক শক্তি এখনও স্থিতিশীল রয়েছে।


