ফুঁসে উঠছেন বিনিয়োগকারীরা

সংস্কার করতে গিয়ে আবার সৎকার না হয়ে যায়

সময়: বুধবার, অক্টোবর ২, ২০২৪ ১০:০৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ

শেয়ারবাজার সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কিন্তু সংস্কারের নামে গোটা শেয়ারবাজার যেন সৎকার না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। পতনের অস্থিতরায় বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য্যর বাধ ভেঙ্গে যাচ্ছে। তারা ফুঁসে উঠছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যেকোন সময়ে বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনে নেমে যাবেন। শেয়ারবাজার যেন পুরানো মদের বোতলে নতুন মদের আমদানি হয়েছে।

শেয়ার বাজার এখন জামায়াতে ইসলাম ( ইবনে সিনা, ইসলামি ব্যাংক) আর গ্রামীণ ব্যাংকের উপর নির্ভর করে সূচক ওঠানামা হচ্ছে। সকাল বেলা এই শেয়ারগুলোর দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে। বিকালে বাধ্য হয়ে তাদের হাতে থাকা শেয়ারগুলো কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছে। এভাবে প্রতিনিয়ত বাজার সূচক হারাচ্ছে আর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বাজারকে দীর্ঘ মেয়াদে ভাল করার জন্য প্রতিনিয়ত আপনাকে বাজারের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসতে হবে। কিন্ত এ ব্যাপারে বাস্তাবিক কোন পদক্ষেপ দেখা হচ্ছে না। আপনি নিজে যা বুঝেন তাই করছেন। কিন্তু তা বাজারের জন্য মঙ্গলজনক হচ্ছে না।

শেয়ারবাজার আর ব্যাংক পরিচালনা এক নয়। শেয়ার বাজার খুব সেনসেটিভ। তাই যেকোন সিদ্ধান্তের আগে দশ বার ভেবে দেখা উচিত। আপনার ভুল সিদ্ধান্তের কারনে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এ বাজারের সম্পদ।

বিনিয়োগকারীরা যদি না থাকে তাহলে এই বাজার কাদের নিয়ে চলবে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন।

বার বার বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর দায় বিএসইসিকে নিতে হবে। বিগত দুই চেয়ারম্যানের দূর্নীতি, লোভ লালসার শিকার সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা যেভা

বে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে বিনিয়োগকারীরা সে ভাবেই চলছে। কেননা সবাই বিনিয়োগ করে লাভের আশায়।
পৃথিবীর যত বড়বড় শেয়ারবাজার আছে সব বাজারেই নিয়ন্ত্রণ করে বড় বড় বিনিয়োগকারী। তাদের মূলধন অনেক ক্ষেত্রে ছোট ছোট কোম্পানির সমান। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। সবাইকে আমলে নিয়েই বিএসইসিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিএসইসির উচিত শেয়ারবাজারের সংস্কারের পাশাপাশি এটিকে প্রমোট করা। এক্ষেত্রে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাতে নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আসে। শেয়ারবাজার ভালো না করে পুরনো কাসুনদি টেনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আজ পথে বসে যাচ্ছে।
বিনিয়োগকারীরা সবসময়ই একটা সুস্থ স্বাভাবিক বাজার চায়। যেখানে বিনিয়োগকারীরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভুলের কারণে যেন আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

Share
নিউজটি ৪৬৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged