সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন

সপ্তাহজুড়ে দরপতনের চাপ, মূলধন খসে পড়লো অল্প—বড় ধস সূচকে

সময়: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫ ৬:৫৩:১৭ অপরাহ্ণ

ব্যাপক দরপতনেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে মাত্র ১৪৬ কোটি টাকা। তবে সূচক ও লেনদেনের গতি হোঁচট খেয়েছে বড় আকারে। এর ফলে টানা দুই সপ্তাহ শেয়ারবাজার পতনের মধ্যে থাকলো।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মোট কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র ৬৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ৩০৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির দাম। অর্থাৎ, শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার তুলনায় দরপতনের সংখ্যা ছিল সাড়ে চারগুণ বেশি। হিসাব অনুযায়ী সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৭ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে।

এমন বিপুল দরপতনের পরও সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৭ লাখ ২৪ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে মাত্র ১৪৬ কোটি টাকা বা ০.২০ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছিল ৩ হাজার ১৮০ কোটি টাকা।

যদিও বাজার মূলধন সামান্য কমেছে, তবে সব সূচকেই বড় পতন দেখা দিয়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৭৩ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা ১.৩৪ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহে এই সূচক কমেছিল ৯০ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ১.৬১ শতাংশ। ফলে টানা দুই সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক মোট ১৬৪ পয়েন্ট নিচে নেমে গেছে।

বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৪৩ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বা ২.০৪ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহে সূচকটির পতন হয়েছিল ৩১ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট। অর্থাৎ দুই সপ্তাহে এই সূচক কমলো ৭৫ পয়েন্ট।

অন্যদিকে, শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসই শরিয়াহ্ সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৮ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা ১.৫১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচক কমেছিল আরও বেশি—৩৩ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বা ২.৭৪ শতাংশ।

এছাড়া গত সপ্তাহে লেনদেনের গতি হ্রাস পায় বড়ভাবে। প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৭০১ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। আগের সপ্তাহে প্রতিদিনের গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ, গড় লেনদেন কমেছে ৪৪৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা প্রায় ৩৯.০২ শতাংশ।

টাকার অঙ্কে সপ্তাহজুড়ে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে খান ব্রদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ-এর শেয়ারে। প্রতিদিন গড়ে ৩১ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে কোম্পানিটিতে, যা মোট লেনদেনের ৪.৫০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সামিট এলায়েন্স পোর্ট-এর প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আর তৃতীয় স্থানে থাকা রবি আজিয়াটার গড় লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

 

Share
নিউজটি ১৬২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged