সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ১০৭ কোটি টাকা উত্তোলন, নতুন আমানতও এসেছে ৪৪ কোটি

সময়: সোমবার, জানুয়ারি ৫, ২০২৬ ৭:৫৪:৩৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সদ্য একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে গত দুই দিনে আমানতকারীরা মোট ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে একই সময়ে ব্যাংকটিতে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের নতুন আমানতও জমা পড়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

ব্রিফিংয়ে গভর্নর জানান, পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার ও রবিবার—এই দুই দিনে মোট ১৩ হাজার ৩১৪ জন আমানতকারী টাকা তুলে নিয়েছেন। তবে ইতিবাচক দিক হলো, একই সময়ে ব্যাংকটিতে ৪৪ কোটি ৯ লাখ টাকার নতুন আমানত জমা পড়েছে। ফলে নিট হিসাবে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

এসময় গভর্নর আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, টাকা উত্তোলন হলেও নতুন করে আমানত আসছে—এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ব্যাংকটির অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ। গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং ভবিষ্যতেও উদ্বেগের কিছু দেখছেন না বলে জানান তিনি।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, গত দুই দিনে যারা ব্যাংকটিতে আমানত জমা দিয়েছেন, তারা সবাই নতুন গ্রাহক। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক মুনাফাও পাবেন বলে জানান গভর্নর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপস্থাপিত ব্যাংকভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক থেকে সবচেয়ে বেশি ৬৬ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে একই সময়ে এই ব্যাংকেই সর্বোচ্চ ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার নতুন আমানত জমা পড়েছে।

অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংক নতুন আমানত সংগ্রহ করেছে ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পেয়েছে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পেয়েছে ৪৮ লাখ টাকা এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে জমা পড়েছে ৬২ লাখ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আরও ঘোষণা দেন যে, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের প্রতিটিতেই বিস্তারিত ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা হবে। এই অডিটের মাধ্যমে অতীতে কীভাবে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, তা চিহ্নিত করা হবে।

তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, অর্থ কোথায় গেছে এবং কারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল—সবই খুঁজে বের করা হবে। কোনো কর্মকর্তা বা স্পন্সর-পরিচালক দোষী প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

গভর্নর জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আপাতত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন থাকলেও এটি বেসরকারি ব্যাংকের আদলে পরিচালিত হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সরকারি পে-স্কেল কার্যকর করা হবে না। বরং একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের পৃথক বেতন কাঠামো একীভূত করে একটি অভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যাংকটির জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য হলো আগামী ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে লাভজনক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা।

Share
নিউজটি ৩৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged