সাত গুণ মুনাফা বৃদ্ধিতে ফাইন ফুডসের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ

সময়: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৭, ২০২৫ ১:৩৭:৫৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: হঠাৎ করে সাত গুণেরও বেশি মুনাফা বৃদ্ধির ঘটনায় আলোচনায় এসেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি ফাইন ফুডস লিমিটেড। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ১২ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৫৭ পয়সা। ইপিএসে এই অস্বাভাবিক ও আকস্মিক উল্লম্ফন নিয়ে বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ ও সন্দেহ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এক দশকে এমন উল্লম্ফন কোম্পানিটির আয় প্রতিবেদনে দেখা যায়নি। যেখানে পূর্ববর্তী বছরগুলোতে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল খুবই কম এবং ডিভিডেন্ডও ছিল ন্যূনতম। অথচ ২০২৪ সালের শেষে কোম্পানিটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, যা আরও বিস্ময়ের জন্ম দেয়।

বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয় যখন দেখা যায়, উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ধারণ ৩০ শতাংশের নিচে থাকলেও তারা বারবার এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন, অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

বর্তমানে ফাইন ফুডসের মোট শেয়ারের সংখ্যা ১ কোটি ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৮টি। এর মধ্যে ১৫.২৫ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের, ২৭.৩১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এবং ৫৭.৪৪ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। বিএসইসির বিধি অনুযায়ী উদ্যোক্তাদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হয়েছেন বিতর্কিত দুই ব্যক্তি—বিশ্বজিৎ দাশ ও সুজিত সাহা। বিশ্বজিৎ দাশের বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং সুজিত সাহা মাত্র ২০৬টি শেয়ারের মালিক হয়েও এক সময় কোম্পানির চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলছেন, যাদের শেয়ারহোল্ডিং প্রায় না থাকার মতো, তারা কীভাবে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন?

বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, বিশ্বজিৎ দাশ ও একমি পেস্টিসাইডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা উর রহমান—যারা উভয়েই সিনহা ফুডসের পরিচালক এবং ন্যাশনাল ফাইন্যান্সের ঋণখেলাপি—তাদের সঙ্গে রয়েছে ব্যবসায়িক সম্পর্ক। তারা ফাইন ফুডসের বিপুল পরিমাণ প্লেসমেন্ট শেয়ারের মালিক বলেও জানা গেছে। ধারণা করা হয়, কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন একমি পেস্টিসাইডের অফিস থেকেই তৈরি করা হয়। এছাড়া একমির ভবন নির্মাণে বিশ্বজিৎ দাশ নিজেই ঠিকাদারি কাজ করেছেন, যা কমিশনের তদন্তে বিধিবহির্ভূত প্রমাণিত হয়েছে।

২০২৪ অর্থবছর শেষে (৩০ জুন পর্যন্ত) ফাইন ফুডসের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৮৮ পয়সা, যা আগের বছর ছিল মাত্র ৭ পয়সা। এ সময় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ঘোষিত হয়েছে ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে কোম্পানিটি দিয়েছে মাত্র ১.২৫ শতাংশ (২০২৩) এবং ১.৫০ শতাংশ (২০২২) ডিভিডেন্ড। ২০২১ সালে ছিল লভ্যাংশ শূন্য, বরং ওই বছর কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১১ পয়সা লোকসান করেছিল।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক মুনাফা ও লভ্যাংশ বৃদ্ধির পেছনে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের চেয়ে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাই তারা দ্রুত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে বিতর্কিত ব্যক্তিদের যুক্ত হওয়া এবং বিএসইসির নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

 

Share
নিউজটি ১৬৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged