সাফকো স্পিনিংয়ের শেয়ার কারসাজি ফাঁস: ১২ জনকে কোটি টাকার জরিমানা

সময়: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫ ১০:২৩:৩৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড-এর শেয়ার কারসাজির ঘটনায় বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কারসাজির দায়ে ১২ জন বিনিয়োগকারীকে মোট ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিএসইসি সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ২ মে থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সময়ে যোগসাজশের মাধ্যমে ‘সিরিজ ট্রেডিং’ করে কৃত্রিমভাবে সাফকো স্পিনিংয়ের শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময়ে শেয়ারের দর ১০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ মাত্র এক মাস ১৮ দিনে দাম বেড়ে যায় ২১৫ শতাংশ। এভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে অভিযুক্তরা অবৈধ মুনাফা হাতিয়ে নেন।

কারসাজির হোতা ও সহযোগীরা
তদন্তে উঠে এসেছে, কারসাজির মূল হোতা ছিলেন মো. সজিব হোসেন ও মো. সুলেমান। তাদের সহযোগিতা করেছেন আরও ১০ জন শেয়ার ব্যবসায়ী। তারা হলেন—

মো. শরিফ

তাসলিমা বেগম

আব্দুল কুদ্দুস আমিন

একেএম খলিলুর রহমান

নুরুন্নেসা সাকি

মো. বেলাল হোসেন

আরিফা বেগম লাকি

তারান্নুম সাফি

মাহমুদা আক্তার

কাজী মহিউদ্দীন আহমেদ

জরিমানার অঙ্ক কার কত
বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরিমানার অঙ্ক নিম্নরূপ—

মো. সজিব হোসেন: ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা

মো. সুলেমান: ৬৬ লাখ টাকা

মো. শরিফ: ৩৩ লাখ টাকা

তসলিমা বেগম ও সজিব হোসেন (যৌথভাবে): ২৭ লাখ টাকা

আব্দুল কুদ্দুস আমিন: ২৭ লাখ টাকা

একে এম খলিলুর রহমান: ২৪ লাখ টাকা

নুরুন্নেসা সাকি: ১৯ লাখ টাকা

মো. বেলাল হোসেন: ৯ লাখ টাকা

আরিফা বেগম লাকি: ৮ লাখ টাকা

তারান্নুম সাফি: ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা

মাহমুদা আক্তার: ২ লাখ টাকা

কাজী মহিউদ্দীন আহমেদ: ২ লাখ টাকা

বিএসইসির অবস্থান
বিএসইসি বলেছে, অভিযুক্তরা বাজারে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছেন। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ করায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে কমিশনের অনুকূলে জমা দিতে হবে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোম্পানির প্রেক্ষাপট
২০০০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড। বর্তমানে কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এরপর থেকে আর কোনো লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি।

কোম্পানির শেয়ার কাঠামো অনুযায়ী—

উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে আছে ৩০%

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ৭.০৮%

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ৬২.৯২% শেয়ার

 

 

Share
নিউজটি ১৭২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged