নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি খাতের তালিকাভুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন তার ছেলে রাইয়ান কবির, পুত্রবধূ নুসরাত নাহার এবং ব্যাংকের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রি-আইপিও প্লেসমেন্ট ও সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার লেনদেনের আড়ালে ঋণ জালিয়াতি, সন্দেহজনক লেনদেন ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিএসইসি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির নেতৃত্বে আছেন অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া। অন্য দুই সদস্য হলেন উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক রানা দাশ। তদন্তের বিষয়ে আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে—সাউথইস্ট ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কত টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডে শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিএসইসি মনে করছে, বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে এই অভিযোগগুলো গভীরভাবে তদন্ত করা জরুরি। এজন্য কমিশন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর ধারা ২১, বিএসইসি আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
উল্লেখ্য, আলমগীর কবির চলতি বছরের ২০ জুলাই ব্যক্তিগত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০০৪ সাল থেকে টানা ২০ বছর তিনি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মেয়াদকালে আত্মীয়স্বজনকে পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা, অনিয়ম করে ঋণ বিতরণ এবং বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ একাধিকবার ওঠে।
সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বড় রদবদল ঘটে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এম এ কাশেম নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার পরও আলমগীর কবির পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
এর আগেও বিএসইসি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর বে লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেনে সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাকে ১২ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে ৫ কোটি টাকা এবং জামাতা তুষার এল কে মিয়াকে আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করে কমিশন।
এছাড়া ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুটি পৃথক আবেদনের ভিত্তিতে আদালত আলমগীর কবিরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ওই আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব।


