শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসি উৎপাদন বাড়াতে আরও জমি কিনছে। সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কোম্পানিটি মুন্সীগঞ্জের পশ্চিম মুক্তারপুরে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় ৩৩০ শতাংশ জমি কিনতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি-সহ অন্যান্য খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়। পরে কোম্পানির ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
উৎপাদন সুবিধা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতা
ক্রাউন সিমেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই মুক্তারপুরে দেশের অন্যতম বৃহৎ সিমেন্ট উৎপাদন কমপ্লেক্স গড়ে তুলেছে। এর আগে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি কারখানার পাশে প্রতি শতাংশ ৬ লাখ টাকা দরে ২৪৫ শতাংশ জমি কিনেছিল। কোম্পানি সূত্র জানায়, নতুন জমি কেনা তাদের দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ।
২০০২ সালে দ্বিতীয় ইউনিট চালুর মাধ্যমে দৈনিক ৮০০ টন উৎপাদন ক্ষমতা দিয়ে যাত্রা শুরু করে ক্রাউন সিমেন্ট। পরে ২০০৮ সালে তৃতীয়, ২০১১ সালে চতুর্থ, ২০১৭ সালে পঞ্চম ইউনিট এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ষষ্ঠ ইউনিট চালু করে। সর্বশেষ এই ইউনিটের মাধ্যমে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৪০ টনে, যা বছরে প্রায় ৫.৭ মিলিয়ন টন।
চাহিদা বাড়ছে, কৌশলও বদলাচ্ছে
কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, দেশে সিমেন্টের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। তাই উৎপাদন ঘাঁটি আরও শক্তিশালী করা তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে নির্মাণ সামগ্রীর বাজারে নেতৃত্ব ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্প্রসারণের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত করছে ক্রাউন সিমেন্ট।
আর্থিক পারফরম্যান্সের চিত্র
তবে শিল্পখাতে ব্যয় বৃদ্ধি কোম্পানির পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৫৬ পয়সায়, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ৯০ পয়সা। মার্চ মাস শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৮ টাকা ৪৭ পয়সা।
এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ক্রাউন সিমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের ২১ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ওই সময়ে ইপিএস ছিল ৬ টাকা ৪৭ পয়সা, যা আগের বছরের ৪ টাকা ১১ পয়সার তুলনায় বেশি। একইসঙ্গে রাজস্ব বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা।


