টানা ৫ কার্যদিবস শেয়ারবাজারে সূচকের পতন হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা রয়ে গেছে। কারণ, এর আগেও বাজারে এ ধরনের দরপতনের পর ধারাবাহিক উত্থান দেখা গেছে। তাই লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করে বিনিয়োগকারীরা ধরে রেখেছেন তাদের শেয়ার। এর ফলে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করতেন, তাহলে সূচকের পতনের সাথে সাথে টাকার অংকে লেনদেন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেত।
আজ (১১ আগস্ট) সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) উত্থান দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত সূচক ও লেনদেন দুইই কমেছে। বাজার খোলার পর সূচকের একটানা উত্থানে বেলা পৌনে ১১টায় ডিএসইএক্স সূচক ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩৯৯ পয়েন্টে। তবে পরবর্তী সময়ে পতন শুরু হয়ে দিনশেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
ডিএসইর সার্বিক চিত্র
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আজ ৬.৯৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,৩৪৪.০৪ পয়েন্টে। ডিএসইএস সূচক ০.২৭ পয়েন্ট কমে হয়েছে ১,১৬২.০৮ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ০.৩৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,০৬৭.০২ পয়েন্টে। আজ মোট ৪০৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২১টির দর বেড়েছে, ২০১টির কমেছে এবং ৮৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১০ কোটি ৮৬ লাখ টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় ১৪৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা কম। গত কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৭৬০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আগেরদিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার। আজ সিএসইতে ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির দর বেড়েছে, ১০৮টির কমেছে এবং ২৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই আজ ৩০.৪৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫,০০৫.৭৫ পয়েন্টে। গত কর্মদিবসে সূচক ১৭১.৪৬ পয়েন্ট কমেছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান দরপতন সাময়িক এবং বিনিয়োগকারীরা ধৈর্য ধরে শেয়ার ধরে রাখলে বাজার শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াতে পারে।


