সোনালী লাইফে কর্মবিরতি অব্যাহত : বরখাস্ত ১২ কর্মকর্তাকে পুনর্বহালের আদেশ হাইকোর্টের

সময়: মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪ ১২:১১:২২ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদক: সোনালী লাইফের ১২ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই আদেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, কর্তৃপক্ষের পরিচালক( আইন) ও সোনালী লাইফে নিযুক্ত প্রশাসককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান। সাথে ছিলেন অ্যাডভোকেট সুমাইয়া ইফরিত বিনতে আহমেদ।
এর আগে গত ১১ জুলাই অবৈধ আর্থিক সুবিধার দাবিতে আন্দোলন এবং দুর্নীতির তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে প্রশাসকের কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়ার অভিযোগে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয়ের ওই ১৩ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন কোম্পানিটির প্রশাসক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস।

বরখাস্তকৃত এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে নিয়োগের শর্তাবলী লঙ্ঘন এবং গ্রাহকসেবা বন্ধসহ কোম্পানিকে কোনরূপ সার্ভিস প্রদান না করার অভিযোগ আনা হয়। কর্মকর্তারা হলেন, কোম্পানিটির সিনিয়র ম্যানেজার সাহিদুর রহমান, সিনিয়র ম্যানেজার সঞ্জয় চক্রবর্তী, এসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মৌসুমী রায়, ম্যানেজার আবদুল মালিক, এসিসটেন্ট ম্যানেজার আহমেদ সরোয়ার জনি, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মৌসুমী দাসগুপ্ত, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার কাউসার আহমেদ রাসেল, এক্সিকিউটিভ অফিসার সাব্বির হোসেন, সিনিয়র অফিসার নাইমুর রহমান, সিনিয়র অফিসার পলি রানী সরকার, সিনিয়র অফিসার মিলন মাহমুদ, সিনিয়র অফিসার মাহবুবা জিন্নাত এবং অফিসার মিজানুর রহমান।

এদিকে অন্যান্য দিনের মতো গতকাল সোমবারও বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চতুর্থ প্রজন্মের বীমা কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মীরা। কয়েক দফা দাবিতে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটির মাঠ পর্যায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধসহ কয়েক দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত তিন শতাধিক কর্মী এই বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে কোম্পানিটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মীরা।

বিভিন্ন দাবিতে কোম্পানিটিতে আইডিআরএ নিযুক্ত প্রশাসক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফেরদৌসের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন আন্দোলনরতরা।

স্মারকলিপিতে তারা বলেন, সোনালী লাইফের সকল এফএ, ইউএম ও বিএমদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।; নিরপেক্ষ অডিট কোম্পানি দিয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ অডিট সম্পন্ন করে রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে; স্যালারি পলিসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্যান্য জীবন বীমা কোম্পানির প্রচলিত সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় রেখে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিয়ম যথাযথ প্রতি পালন সাপেক্ষে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে; এজেন্টদের অ্যালাউন্স ও বোনাস দ্রুত দেয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহিল কাফী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মো. আজিম এবং সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদকে দ্রুত পদে বহাল করতে হবে, প্রধান কার্যালয়ের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অস্ত্রধারী আনসার সদস্যদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং আইডিআরএর’র প্রশাসক নিয়োগপত্রের ৯৫(৯) ধারার বাইরে স্বেচ্ছাচারী কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা যাবে না।

 

Share
নিউজটি ১৯৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged