১০ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লোকসান বেড়ে ১৭%: সংকটে নন-ব্যাংক খাত

সময়: সোমবার, আগস্ট ১৮, ২০২৫ ৪:৪৭:২৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ২৩টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) মধ্যে ১৬টি চলতি অর্থবছরের অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। বিপরীতে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠান ১৭৮ কোটি টাকা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।

অর্থবছরের প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি লোকসান করেছে ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, যার লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৬৮ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (১৮৯ কোটি টাকা) এবং এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (১৪৭ কোটি টাকা)।

অন্যান্য লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ফার্স্ট ফাইন্যান্স, মিডাস ফাইন্যান্সিং, ইসলামিক ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, বে লিজিং এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স।

অন্যদিকে, লাভজনক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স, যাদের মুনাফা হয়েছে ১১১ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে ডিবিএইচ ফাইন্যান্স, যার লাভ হয়েছে ৪২ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বছরের পর বছর দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং ঋণ শ্রেণিকরণের নিয়ম না মানার কারণেই এই খাত লোকসানে নিমজ্জিত। এ ছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান সুদের হার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। ভালো ঋণগ্রহীতারাও বাজার সংকোচন ও নগদ টাকার ঘাটতির কারণে কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে পড়ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০টি দুর্বল এনবিএফআইকে তারল্য সহায়তা দিচ্ছে এবং তাদের পুনর্গঠন বা সম্ভাব্য একীভূতকরণের বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। যদিও এনবিএফআই খাতের আকার মোট আর্থিক খাতের মাত্র ৫–৬ শতাংশ, তবু এ খাতের ঝুঁকি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব মনে করেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং স্বল্পমেয়াদি আমানতের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার কারণে সম্পদ-দায়বদ্ধতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। তার মতে, এই খাত পুনরুদ্ধারের জন্য একটি শক্তিশালী শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেট অপরিহার্য।

 

Share
নিউজটি ২৪৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged