নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১২টি কোম্পানি চলতি ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) ও ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, কিছু কোম্পানি মুনাফা বাড়াতে সক্ষম হলেও কয়েকটি কোম্পানি উল্লেখযোগ্য লোকসান করেছে।
এবারের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সবচেয়ে বড় লোকসান করেছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স এবং সিঙ্গার বাংলাদেশ। অপরদিকে ইউনিলিভার কনজুমার কেয়ার ও লিন্ডে বাংলাদেশ আগের বছরের তুলনায় মুনাফা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
হাইডেলবার্গ সিমেন্ট
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) হয়েছে ৪৭ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৫০ পয়সা। ছয় মাসে ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৯৫ পয়সায়, আগের বছর একই সময় ছিল ৭ টাকা ৪৫ পয়সা।
প্রতি শেয়ারে সম্পদ মূল্য (NAVPS): ৭৪ টাকা ৩২ পয়সা।
রূপালী ইন্স্যুরেন্স
এই প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩০ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩৯ পয়সা। ছয় মাসে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭০ পয়সা, গত বছর একই সময়ে ছিল ৭৫ পয়সা।
NAVPS: ২১ টাকা ১ পয়সা।
প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিটি দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা অগ্রগতি দেখিয়েছে। ইপিএস বেড়ে হয়েছে ৪০ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩৫ পয়সা। তবে ছয় মাসে ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮ পয়সা, আগের বছর ছিল ৯০ পয়সা।
NAVPS: ২২ টাকা ৪৯ পয়সা।
ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স
দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ২৮ পয়সা, যা আগের ছিল ২৭ পয়সা। ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ৫৩ পয়সা, আগের ছিল ৫৫ পয়সা।
NAVPS: ২১ টাকা ৫৭ পয়সা।
ফারইস্ট ফাইন্যান্স
এই কোম্পানিটি টানা লোকসানে রয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৯৫ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ১৫ পয়সা। ছয় মাসে লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১০ পয়সায়, যা আগের বছর ছিল ২ টাকা ২৭ পয়সা।
NAVPS: মাইনাস ৫৩ টাকা ৫৮ পয়সা।
সিঙ্গার বাংলাদেশ
এই প্রান্তিকে কোম্পানিটির অবস্থা খারাপ হয়েছে। ইপিএস গত বছর যেখানে ছিল ২ টাকা ৫৮ পয়সা, এবার সেখানে লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ১১ পয়সা। ছয় মাসে লোকসান দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৬১ পয়সা, গত বছর ছিল ইপিএস ২ টাকা ৩৭ পয়সা।
NAVPS: ১৮ টাকা ২০ পয়সা।
সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স
দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৯ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৫৩ পয়সা। ছয় মাসে ইপিএস কমে হয়েছে ৯২ পয়সা, আগের ছিল ১ টাকা ৬ পয়সা।
NAVPS: ৪৯ টাকা ৮০ পয়সা।
লিন্ডে বাংলাদেশ
দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৩ পয়সা, যা আগের ছিল ৬ টাকা ৬৫ পয়সা। ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ১২ টাকা ৩৩ পয়সা, আগের বছর ছিল ১৩ টাকা ৪ পয়সা।
NAVPS: ২০১ টাকা ৬৬ পয়সা।
এশিয়া ইন্স্যুরেন্স
এই প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস বড় ধরনের পতন দেখিয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস মাত্র ১১ পয়সা, যা আগের ছিল ৫১ পয়সা। ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ৫১ পয়সা, আগের ছিল ৮৮ পয়সা।
NAVPS: ২৯ টাকা ২২ পয়সা।
ইউনিলিভার কনজুমার কেয়ার
শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে এই কোম্পানিটি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১২ টাকা ৬২ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৯ টাকা ৮৩ পয়সা। তবে ছয় মাসে ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৭৮ পয়সা, আগের ছিল ৪১ টাকা ৪৪ পয়সা।
NAVPS: ৯৪ টাকা ৬১ পয়সা।
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটিবিসি)
দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮০ পয়সা, যা আগের ছিল ৯ টাকা ৪৮ পয়সা। ছয় মাসে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৬৯ পয়সা, যা আগের ছিল ১৭ টাকা ১৪ পয়সা। NAVPS: ৯৯ টাকা ৫৭ পয়সা।
নিটল ইন্স্যুরেন্স
এই প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়ে হয়েছে ৩২ পয়সা, যা আগের ছিল ২৭ পয়সা। ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ৭১ পয়সা, যা আগের ছিল ৬৯ পয়সা।
NAVPS: ৩২ টাকা ৪ পয়সা।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্য বিক্রির মন্দা এবং আয় কমে যাওয়ায় বেশ কিছু কোম্পানির মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অন্যদিকে, ইনস্যুরেন্স খাতের বেশ কিছু কোম্পানি স্থিতিশীল পারফরম্যান্স করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী প্রান্তিকে আরও শক্তিশালী আর্থিক কাঠামো ও কার্যকর ব্যয়-নিয়ন্ত্রণের ওপর কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স নির্ভর করবে।


