২০১১ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানির পরিচালকদের এককভাবে দুই শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের নির্দেশ দিয়েছিল। নির্দেশনার ১৩ বছর শেষ হতে চললেও বিএসইসির সেই নির্দেশনাকে দিনের পর দিন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আসছে তালিকাভুক্ত ২৬ কোম্পানি।
গেল ১৩ বছরে বিএসইসির সেই নির্দেশনা পালনের বারংবার নানা ব্যবস্থা নিলেও কোম্পানির পরিচালকদের তা গায়েই লাগেনি। তাদের উদ্দেশ্যটা এমন যে, পুঁজিবাজার থেকে টাকা নেওয়া শেষ, দায়িত্বও শেষ। সবচেয়ে বড় বিষয়ে বিএসইসির নির্দেশনা পরিপালন না করা বেশিরভাগ কোম্পানি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। কিছু কোম্পানির পরিচালকরা আগেই পুঁজিবাজার থেকে অর্থ লুটে কেটে পড়েছে। সেগুলোকে আবার সংষ্কারের নামে নতুন পর্ষদ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে বার বার তাদের শেয়ার ধারণের কোটা পূরণের তাগাদা দিলেও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা তাদের বাগে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। যে কাজে যার ব্যর্থতা তাকে অবশ্যই সেই ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত। এতে যে ব্যক্তি কঠোরভাবে কোম্পানিগুলোকে মোকাবেলা করতে পারবে তারই বরং দায়িত্বে আসা উচিত।
নিয়ম অনুযায়ী দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে তাদের মোট শেয়ারের ৩০ শতাংশ ধারণ করতে হবে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের। তবে এখনো ২৬টি কোম্পানি এই নির্দেশনা পরিপালন করেনি। এসব কোম্পানিকে ন্যূনতম শেয়ার ধারণ করতে পুনরায় নির্দেশ দিয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসি কমিশন সভায় সম্প্রতি এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিএসইসি
সূত্রের তথ্য মতে, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানির কাছে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়ে তাদের অসম্মতির ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি। কোম্পানিগুলো হলো- অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস, অ্যাপোলো ইস্পাত, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, ফ্যামিলিটেক্স বিডি, মিথুন নিটিং এবং সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ।
অন্য দিকে, এখনো ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেনি এমন ছয়টি কোম্পানিতে দুইজন করে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। কোম্পানিগুলো হলো- ফার্মা এইডস, আলহাজ টেক্সটাইল, আজিজ পাইপস, এফএএস ফাইন্যান্স, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন এবং রিং শাইন টেক্সটাইল। এ ছাড়া আরো ১৩টি কোম্পানিকে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার জন্য এক বছর সময় দিয়েছে বিএসইসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানিগুলো ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ কিভাবে করবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা চেয়েছে বিএসইসি।
এক বছর সময় পাওয়া কোম্পানিগুলো হলো- আফতাব অটোমোবাইলস, ইনটেক লিমিটেড, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলস, আরএসআরএম, ফাইন ফুডস, সালভো কেমিক্যাল, ফু-ওয়াং ফুডস, আইএসএন লিমিটেড, এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক, ন্যাশনাল ব্যাংক, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ডেল্টা স্পিনার্স।
উল্লেখিত কোম্পানিগুলো দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিএসইসির নির্দেশনা অমান্য করে আসছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার আগের চেয়ারম্যান ৩ দফায় দায়িত্ব পালন করলেও কোন কাজ হয়নি। বর্তমান চেয়ারম্যানের প্রথম দফা শেষ হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করলেও কোন কাজ হচ্ছে না। তাই হয় বাজারকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত; না হয় দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে পদত্যাগ করে অন্যকে সুযোগ দেওয়া উচিত।


