১৬ নন-লাইফ বীমা কোম্পানিকে জরিমানা

সময়: বুধবার, জুলাই ৩, ২০২৪ ৫:৪৩:৪০ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিনিধি: অনুমোদিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, সরকারি সিকিউরিটিজে আবশ্যিক বিনিয়োগ না করা ও বিশেষ নিরীক্ষায় উঠে আসা বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১৬ টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানিকে জরিমানা করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

সম্প্রতি আইডিআরএ’র নন-লাইফ অনুবিভাগ জরিমানা সংক্রান্ত এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে নন-লাইফ অনুবিভাগের রিপোর্ট, রিটার্ন ও অডিট শাখা প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, বিশেষ নিরীক্ষায় উঠে আসা বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ৮টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানিকে ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৪৩০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বিভিন্ন সময় কোম্পানিগুলোর ওপর এসব জরিমানা আরোপ করা হয়।

কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০২১ সালে ১০টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানিতে বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগ দেয় আইডিআরএ। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সে সময় বীমা কোম্পানি পরিচালনা সংক্রান্ত ৯টি বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়।

ওই নিরীক্ষায় কোম্পানিগুলোর নানা অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। পরবর্তীতে এসব অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আটটি নন-লাইফ বীমা কোম্পানিকে জরিমানা করা হয়। তবে দুটি কোম্পানিকে জরিমানা করা হয়নি বলে প্রকাশিত নথি থেকে জানা যায়।

বিশেষ নিরীক্ষার ভিত্তিতে জরিমানা দেয়া নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো হলো- মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স এবং প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

এ ছাড়াও পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে বিশেষ নিরীক্ষা চালানো হলেও প্রতিষ্ঠান দু’টিকে কোন জারিমানা করা হয়নি। ধার্যকৃত জরিমানা এরইমধ্যে কোম্পানিগুলো পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে আইডিআরএ।

কর্তৃপক্ষের নন-লাইফ অনুবিভাগের রিপোর্ট, রিটার্ন ও অডিট শাখার তথ্য মতে, বিভিন্ন অনিয়মের জন্য ২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর জরিমানার টাকা পরিশোধ করে কোম্পানিটি।

বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর। কোম্পানিটি ১৭ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে জরিমানার টাকা পরিশোধ করে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষের নন-লাইফ অনুবিভাগ।

ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় ২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, কোম্পানিটি এই টাকা পরিশোধ করেছে ২৪ অক্টোবর। এশিয়া ইন্স্যুরেন্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর, কোম্পানিটি এ টাকা পরিশোধ করে ৭ ডিসেম্বর।

বিভিন্ন অনিয়মের জন্য প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সকে ৯ লাখ ১ হাজার ৪৩০ টাকা জরিমানা করে আইডিআরএ। ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর এই জরিমানা ধার্য করা হলে কোম্পানিটি ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি এই টাকা পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আইডিআরএ’র নন-লাইফ অনুবিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি। কোম্পানিটি জরিমানার এই টাকা পরিশোধ করে ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ইং তারিখে।

বিশেষ নিরীক্ষায় উঠে আসা বিভিন্ন অনিয়মের জন্য এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর। কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এই জরিমানার টাকা পরিশোধ করে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে।

সর্বোচ্চ জরিমানা করা হয় প্রাইম ইন্স্যুরেন্সকে। বিভিন্ন অনিয়মের জন্য কোম্পানিটিকে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আইডিআরএ।
২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এই জরিমানা ধার্য করা হয় এবং কোম্পানিটি তা পরিশোধ করে গত ৩১ মার্চ।

অপরদিকে অনুমোদিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের দায়ে নন-লাইফ বীমা খাতের সাতটি কোম্পানিকে মোট ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আইডিআরএ’র নন-লাইফ অনুবিভাগের বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় পরিবীক্ষণ শাখা বলছে, ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময় কোম্পানিগুলোর ওপর এসব জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

কর্তৃপক্ষের পরিচালক ও মুখপাত্র জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, নন-লাইফ বীমা খাতের বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের প্রকৃত অবস্থা জানতে ২০২২ সালে কোম্পানিগুলোর অফিস পরিদর্শন করে কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন দল। এতে বেশ কয়েকটি কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যয়সহ নানা অনিয়মের চিত্র উঠে আসে।

পরবর্তীতে এসব অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষে দ্বিপক্ষীয় শুনানি হয় এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য সাতটি বীমা কোম্পানিকে জরিমানা করা হয়। এরমধ্যে ৬টি কোম্পানি জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছে এবং একটি কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে সময় চেয়েছে।

অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করে জরিমানা দেয়া বীমা কোম্পানিগুলোর তালিকায় রয়েছে- স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

এরমধ্যে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করায় স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কোম্পানিটি এরইমধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছে। পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে একই অপরাধের জন্য পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। জরিমানার অর্থ এরইমধ্যে কোম্পানিটি পরিশোধ করেছে।

এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করায় পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কোম্পানিটি এরইমধ্যে জরিমানার টাকা
পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষের নন-লাইফ অনুবিভাগ। কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের জন্য জরিমানা করা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। জরিমানার এই অর্থ এরইমধ্যে পরিশোধ করেছে কোম্পানিটি।

অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করায় দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সকে জরিমানা করা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। কোম্পানিটি এরইমধ্যে জরিমানার টাকা
পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের জন্য তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। কোম্পানিটি জরিমানার এই অর্থ এরইমধ্যে পরিশোধ করেছে।

বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডকেও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের দায়ে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। তবে জরিমানার এই অর্থ পরিশোধে সময় চেয়েছে কোম্পানিটি।

এছাড়া সরকারি সিকিউরিটিজে আবশ্যিক ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বিনিয়োগ না করায় পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সকে।
ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত ব্যয় করা ও সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের শর্ত পূরণ না করে সর্বোচ্চ আট লাখ টাকার জরিমানা দিয়েছে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স।

অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয় বলতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বীমা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে ব্যয় করার অনুমোদন দিয়ে থাকে তাকে বোঝায়। বিশেষ করে এজেন্ট কমিশন ও পরিচালন ব্যয়। মূলত এক বছরে মোট প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়।

Share
নিউজটি ২৪৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged