নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর অংশ হিসেবে ২৬টি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)-এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যেই তাদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য তলব করে তদন্ত শুরু করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় দুদকের তদন্ত
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ১৯ আগস্ট দুদক চেয়ারম্যানকে পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর এবং বিএফআইইউ প্রধানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক তদন্তের আওতায়
এই অভিযানে দেশের ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক—
✔ সোনালী ব্যাংক
✔ জনতা ব্যাংক
✔ অগ্রণী ব্যাংক
✔ রূপালী ব্যাংক
✔ বেসিক ব্যাংক
✔ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
এর সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান, পরিচালক ও এমডিরা তদন্তের আওতায় থাকবেন।
১৮টি বেসরকারি ব্যাংকেও নজরদারি
ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থপাচারের অভিযোগে ১৮টি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—
✔ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ
✔ সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
✔ আইএফআইসি ব্যাংক
✔ ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)
✔ এক্সিম ব্যাংক
✔ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
✔ আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক
✔ গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
✔ ইউনিয়ন ব্যাংক
✔ ন্যাশনাল ব্যাংক
✔ এনআরবি ব্যাংক
✔ এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক
✔ মেঘনা ব্যাংক
✔ বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড
✔ প্রিমিয়ার ব্যাংক
এছাড়া এবি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকও এই তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সাবেক গভর্নরদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ
দুদক ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন সাবেক গভর্নর—
✔ ড. আতিউর রহমান
✔ ড. ফজলে কবির
✔ আবদুর রউফ তালুকদার
সহ ছয়জন সাবেক ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করেছে।
ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতির চিত্র ভয়াবহ
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের পূর্তিতে, “ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা যোগসাজশ করে টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন। একজন চেয়ারম্যান স্বীকার করেছেন যে তার ব্যাংকের ৯৫% ঋণ খেলাপি, অর্থাৎ প্রায় পুরো টাকা মালিক ও পরিচালকরা তুলে নিয়েছেন।”
এ থেকে স্পষ্ট যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের জন্য কুখ্যাত হয়ে ওঠে। বেসিক ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণের কারণে কার্যত ভেঙে পড়েছে। একইসঙ্গে এস আলম গ্রুপের ছয়টি ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
কেন এত বড় অভিযান?
সরকারি সূত্র বলছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য—
✔ ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা
✔ ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ঋণ জালিয়াতি প্রতিরোধ
✔ পুনর্গঠিত ও একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা


