৪৪ কোম্পানিকে ১,০০০ কোটি টাকার অবন্টিত ডিভিডেন্ড সিএমএসএফ-এ জমার নির্দেশ

সময়: রবিবার, জুলাই ১৩, ২০২৫ ১১:৫৪:০১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য অথচ দাবিহীন বা বিতরণ না হওয়া ডিভিডেন্ড উদ্ধার ও ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ৪৪টি তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার অবন্টিত ডিভিডেন্ড ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)-এ স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সিএমএসএফ সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ দাবিহীন ডিভিডেন্ডের মধ্যে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বোনাস শেয়ার আকারে এবং বাকি ১০০ কোটি টাকা নগদ ডিভিডেন্ড হিসেবে আটকে আছে, যা বছরজুড়ে বিনিয়োগকারীদের হাতে পৌঁছায়নি।

সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করে বিএসইসি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি ও সিএমএসএফ কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা।

বিএসইসি জানায়, দাবিহীন ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের আলোকে দেখা গেছে, কিছু কোম্পানির কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবন্টিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড, বোনাস ডিভিডেন্ড, রাইট শেয়ার এবং পাবলিক অফার সাবস্ক্রিপশন মানি বছরের পর বছর ধরে পড়ে রয়েছে।

যে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এ নির্দেশনা জারি হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে:
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, সিঙ্গার বাংলাদেশ, ইবনে সিনা ফার্মা, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, পদ্মা অয়েল, অ্যাটলাস বাংলাদেশ, মুন্ন সিরামিক, জি কিউ বল পেন, সমরিতা হাসপাতাল, নাভানা সিএনজি, মাকসন্স স্পিনিং মিলস প্রভৃতি।

সিএমএসএফ সূত্রে জানা গেছে, কিছু কোম্পানি আগেই দাবিহীন ডিভিডেন্ডের পরিমাণে আপত্তি তোলে, এমনকি কমিশনের নির্দেশনার পরও কিছু অংশ বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিতরণ করেছে। পাশাপাশি কিছু কোম্পানি পৃথক অ্যাকাউন্টে ডিভিডেন্ড সংরক্ষণের নিয়ম না মেনে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অংশ হিসেবে অর্থ ব্যবহার করেছে, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে কঠোরভাবে মনিটর করা হবে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে যথাসময়ে সিএমএসএফ-এ সকল অবন্টিত ডিভিডেন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

২০২১ সালে গঠিত ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ) মূলত বিনিয়োগকারীদের অবন্টিত সম্পদ সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও যথাযথ দাবি নিষ্পত্তির জন্য কাজ করে। কোম্পানিগুলো সিএমএসএফ-এ অর্থ জমা দিলে পরবর্তীতে যথাযথ প্রমাণপত্র জমা দিয়ে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রাপ্য ফেরত নিতে পারেন

Share
নিউজটি ১৩৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged