৬০ কোম্পানির কাছে মূলধন বাড়াতে রোডম্যাপ চাইল বিএসইসি: তালিকাভুক্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থানে কমিশন

সময়: সোমবার, জুন ১৬, ২০২৫ ৫:২৫:২৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে ন্যূনতম মূলধনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ ৬০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির কাছে রোডম্যাপ চেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত থাকার জন্য ৩০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন থাকা বাধ্যতামূলক হলেও অনেক কোম্পানি এখনো সেই শর্ত পূরণ করেনি।

ঈদুল আজহার ছুটির আগেই কমিশন এসব কোম্পানিকে চিঠি দিয়ে তাদের মূলধন বাড়ানোর পরিকল্পনা জানাতে বলেছে। বিএসইসি জানিয়েছে, ন্যূনতম মূলধনের শর্ত পূরণ না করাকে সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে এবং যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রোডম্যাপ জমা দেবে না বা শর্ত পূরণে ব্যর্থ হবে, তাদের মূল বোর্ড থেকে এসএমই বা অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (ATB) স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে এই ৬০টি কোম্পানির মধ্যে:

১১টি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটি টাকার নিচে,

১৫টি কোম্পানির ১০ কোটির নিচে,

২১টি কোম্পানির ২০ কোটির নিচে,

এবং বাকিগুলোর ৩০ কোটির নিচে।

এর মধ্যে কিছু কোম্পানি ভালো পারফর্ম করলেও অনেকেই লোকসানে আছে বা কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। তবুও কিছু কোম্পানির শেয়ারদর যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বেড়েছে, যা বাজারে অস্বাভাবিকতা তৈরি করেছে।

বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “স্বল্প মূলধনের কোম্পানিগুলো সহজেই কারসাজির শিকার হয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই আমরা বাজারে এমন দুর্বল ভিত্তির কোম্পানি রাখতে চাই না।”

তিনি আরও বলেন, “স্টক ডিভিডেন্ড ইস্যু করে মূলধন বাড়ানো প্রকৃত অর্থে মূলধন বৃদ্ধি নয়। কমিশন চায় কোম্পানিগুলো প্রকৃত তহবিল সংগ্রহ করে শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলুক।”

এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ৬৪টি কোম্পানিকে একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তখন একটি বিশেষ কমিটিও গঠিত হয়, যারা কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে। কিন্তু বেশিরভাগ কোম্পানি কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে মূলধন বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনাগ্রহী, কারণ স্বল্প মূলধনের মাধ্যমে তারা সহজেই দরবৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন। তবে বিএসইসির সাম্প্রতিক উদ্যোগকে বাজারে সুশাসন ফেরানোর দিকেই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Share
নিউজটি ৩৫৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged