৮ মাসেই রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ: আগের বছরের তুলনায় ৫১ হাজার কোটি টাকা বেশি

সময়: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫ ১:৪২:১৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) দেশে প্রবাসী আয়ে এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২,১৪৬ কোটি মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার ৮১২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। এটি ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪২৩ কোটি ডলার বা ৫১ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বেশি।

এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি ডলারের দরে স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রবাসীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাচ্ছেন, ফলে হুন্ডি প্রবণতা অনেকটাই কমেছে।’

মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ (২০২৫ সালের প্রথম ৮ মাস)
জানুয়ারি: ২১৯ কোটি ডলার

ফেব্রুয়ারি: ২৫৩ কোটি ডলার

মার্চ: ৩৩০ কোটি ডলার (সর্বোচ্চ)

এপ্রিল: ২৭৫ কোটি ডলার

মে: ২৯৭ কোটি ডলার (দ্বিতীয় সর্বোচ্চ)

জুন: ২৮২ কোটি ডলার

জুলাই: ২৪৮ কোটি ডলার

আগস্ট: ২৪২ কোটি ডলার

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১,৭২৩ কোটি ডলার, এবং ২০২৩ সালে একই সময়ে এসেছিল ১,৪৬৮ কোটি ডলার। তিন বছরের তুলনায় এবার রেমিট্যান্সে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটেছে।

২০২৫ সালের মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ ৩৩০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। একই বছরের মে মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯৭ কোটি ডলার, আর এপ্রিলে এসেছে ২৭৫ কোটি ডলার।
এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স রেকর্ড ছিল ২০২০ সালের জুলাইয়ে ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে ২০২৫ সালের জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩১.৩৩ বিলিয়ন ডলার। তবে আকুর পরিশোধের পর এটি কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ২৯.৫৩ বিলিয়নে। আইএমএফের বিপিএম৬ মানদণ্ডে হিসাব করলে বর্তমান রিজার্ভ ২৪.৪৬ বিলিয়ন ডলার। তুলনামূলকভাবে, ২০২৪ সালের আগস্টে রিজার্ভ ছিল ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

অর্থবছরভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ (ডলারে)
২০২৪-২৫: ৩০.৩৩ বিলিয়ন (সর্বোচ্চ)

২০২৩-২৪: ২৩.৯১ বিলিয়ন

২০২২-২৩: ২১.৬১ বিলিয়ন

২০২১-২২: ২১.০৩ বিলিয়ন

২০২০-২১: ২৪.৭৮ বিলিয়ন

কেন রেমিট্যান্স বেড়েছে?
✅ হুন্ডি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নজরদারি
✅ ডলারের দরে স্থিতিশীলতা
✅ প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি
✅ অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সচেতনতা কর্মসূচি
✅ রপ্তানি আয় ও মুদ্রানীতি সহায়তা

আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ডলারের দরের স্থিতিশীলতা মূল্যস্ফীতি কমার অন্যতম কারণ। এটি সম্ভব হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানোর কারণে। হুন্ডির প্রবণতা অনেকটাই কমেছে।’

 

Share
নিউজটি ২৮৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged