হাউজগুলোও পড়েছে বিপাকে

শেয়ারবাজার ছাড়ছেন বিনিয়োগকারীরা

সময়: সোমবার, জুলাই ১৫, ২০২৪ ১১:২৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ

দিনের পর দিন শেয়ারবাজার মন্দার কারণে উল্লেখযোগ্যহারে বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ কমেছে। গত জুন মাসে যে সংখ্যক বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছিল, জুলাইয়ের দুই সপ্তাহে বন্ধ হয়েছে তার থেকে বেশি। জুনে ১৬ হাজার ৮২টি বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছিল। জুলাইয়ের গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ হয়েছে আরও ১৬ হাজার ৪৭৯টি অ্যাকাউন্ট। বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও বন্ধ হওয়া প্রতিদিনের ঘটনা।

বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কেউ না কেউ নতুন অ্যাকাউন্ট খোলেন। একই সময়ে নানা কারণে বিনিয়োগ তুলে নিয়ে অনেকে অ্যাকাউন্ট বন্ধও করে দেন। সাধারণত বাজার চাঙ্গা থাকলে বিও অ্যাকাউন্ট বাড়ে, আবার মন্দায় কমে যায়। কিন্তু বর্তমানে মন্দাবাজার পরিস্থিতি ভয়াভয় আকার ধারণ করায় বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার পরিমাণ ছিল দেখার মতো। আস্থা না পাওয়ায় শেয়ারবাজার ছেড়ে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে দীর্ঘদিন বাজার পরিস্থিতি নাজুক পর্যায়ে থাকার কারণে বেশিরভাগ হাউজের আর্থিক অবস্থা বেকায়দায় রয়েছে। কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা, অফিস ভাড়া, মেইটেন্যান্স ফি ইত্যাদি খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন হাউজ মালিকরা। তারওপর যে হারে বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ কমছে তাতে হাউজগুলোর মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ১১ জুলাই শেয়ারবাজারে মোট বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৭টি। গত ৩০ মে ছিল ১৭ লাখ ৯১ হাজার ২২৮টি। জুনের প্রথম দিন থেকে প্রতিদিনই কমেছে। সর্বশেষ হিসাবে সক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে ১৩ লাখ ৬ হাজার ১৬৮টিতে কম-বেশি শেয়ার ছিল। তবে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৪১টিতে কোনো শেয়ার ছিল না। এ ছাড়া বিও অ্যাকাউন্ট খোলার পর এখনও শেয়ার কেনা হয়নি, এমন ৭২ হাজার ৪৫৮টি সক্রিয় আছে।

গত ২ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত শেয়ার থাকা বিও অ্যাকাউন্ট কমেছে ৩০ হাজার ৩৬৭টি। শুধু সর্বশেষ ১০ ও ১১ জুলাই দুই দিনে ৬ হাজার ২০৬টি অ্যাকাউন্টে নতুন করে শেয়ার কেনা হয়েছে। এ সময়ে টেকনো ড্রাগসের আইপিও শেয়ার বিওতে বণ্টন হওয়া এই বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা চার মাস মন্দায় ছিল শেয়ারবাজার। এ সময়ে অনেকে শেয়ার বিক্রি করে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। ১২ জুন থেকে টানা চার সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল শেয়ারদর। তবে এতে আকৃষ্ট হয়ে নতুন বিনিয়োগকারী এসেছে– এমন প্রবণতা খুব বেশি দেখা যায়নি। অ্যাকাউন্টে শেয়ার থাকুক বা না থাকুক, অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা নবায়ন ফি বাবদ ৪৫০ টাকা থেকে সিডিবিএলকে ৩৫০ টাকাই দিতে হয়, যার ২০০ টাকা পায় সরকার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি নেয় ৫০ টাকা।

শেয়ার না থাকা অ্যাকাউন্টের গ্রাহক ওই অ্যাকাউন্ট আর কখনও ব্যবহার না করলে ৩৫০ টাকার ক্ষতির পুরোটা প্রতিষ্ঠানের। এ কারণে জুন ও জুলাই জুড়ে ব্রোকারেজ হাউসগুলো নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেয়। তবে মন্দা পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারলে আবারও বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ বাড়বে। লেনদেন বাড়লে হাউজগুলোও পুনরায় সচল হবে।

Share
নিউজটি ২৮১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged