এবার সকলের দুর্নীতি সামনে আনার পালা

সময়: বুধবার, আগস্ট ১৪, ২০২৪ ১২:৫৯:৫৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. এম মাশরুর রিয়াজ। খুব শিগগিরই কমিশনারদের শূণ পদও পূরণ করা হবে। তবে পুঁজিবাজারের দায়িত্ব যিনি পেয়েছেন তিনি পূর্বের দুই চেয়ারম্যানের কর্মকান্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবেন সেই প্রত্যাশা। তবে এখানেই শেষ নয়।

এতোদিন পুঁজিবাজারের যে দুর্নীতি হয়েছে, ভূয়া আইপিও এনে বাজার থেকে যারা হরিলুট করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে প্রত্যেকের চিত্র সামনে আনার পালা। দোষীদের কাছ থেকে অর্থ ফেরতসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শেয়ারবাজারের গডফাদার বা দরবেশ বাবা হিসেবে খ্যাত সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও শেয়ারবাজারের ইস্যু ছাড়া রাজনৈতিক ইস্যুতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু বিচার যেন একসঙ্গেই হয়।

শুধু পদত্যাগের মাধ্যমে অনিয়মের শাস্তি হয় না। অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত ও শেখ শামসুদ্দিনসহ দুই কমিশনার শেয়ারবাজারে যেসব দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছেন, বাজারকে ‘ক্যাসিনো’ বানিয়েছেন, নিজেরা লুট করেছেন এবং কতিপয় ব্যক্তিকে লুটের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন– তার উপযুক্ত তদন্ত করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। গত ১৪ বছরে ড. খায়রুল হোসেন এবং শিবলী রুবাইয়াতের কমিশন যেভাবে শেয়ারবাজারকে ধ্বংস করেছে এবং লুট ও স্বার্থান্বেষীদের লুটের সুযোগ করে দিয়েছে, পদত্যাগ করে তার দায়মুক্তি পেতে পারেন না। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এজন্য পুরো সময়ের এই দুই কমিশনের সব অপকর্মের জন্য সরকারকে তদন্ত করতে হবে।

শিক্ষকতা পেশা থেকে এসে গত ১৪ বছর ড. এম খায়রুল হোসেন ও অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ সালের ধসের পর এদের ওপর দায়িত্ব ছিল বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং, প্লেসমেন্ট শেয়ার বাণিজ্য ও কারসাজি বন্ধ করা, ভালোমানের আইপিও আনা, আর্থিক প্রতিবেদনে যথার্থতা নিশ্চিত করা। এই দীর্ঘ সময়ে এসব অঙ্গীকার নিয়ে বাজারের দায়িত্ব নিলেও করেছেন উল্টো।

তাদের অপেশাদার এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে বাজার ধ্বংস হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে নেমেছে। লাখ লাখ বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে বাজার ছেড়েছেন। তারা শুধু ভালো ভালো অঙ্গীকার করেছেন, আদতে বাজারের উন্নয়নে কোনো কাজ করেননি।

গত ১৪ বছরে আইপিওর নামে যে পরিমাণ দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। আইপিওর মাধ্যমে বাজারে অনুপযুক্ত, দুর্বল, মানহীন এবং দেউলিয়াগ্রস্ত কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সেকেন্ডারি শেয়ারবাজারকে ‘ক্যাসিনো’ বানিয়েছেন।

আগের মতো আর যাতে এমন অনিময় সংঘটিত না হয়, তার জন্য আর কখনও রাজনৈতিক বিবেচনায় বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান, কমিশনার বা পরিচালক নিয়োগ করা যাবে না। সরকারের নাম করে তারা অপকর্ম করেছে। এর দায় ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। তাই পূর্বের ভুল থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে সামনের দিকে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সেই প্রত্যাশা ভুক্তভোগিদের।

Share
নিউজটি ২৫৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged