মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আপেল মাহমুদকে অপসারণের দাবি

সময়: মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০২৪ ১:২১:৫৩ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আপেল মাহমুদকে অপসারণ, সালমান এফ রহমানের গঠনকৃত বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর, আত্মসাতকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার ও বঞ্চিত গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধসহ নয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

দুই যুগ ধরে থাকা দখলদার ও লুটেরাদের কবল থেকে এক সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় বীমা প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে মুক্ত করতে গতকালও কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে কোম্পানিটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা কর্মচারী ও ক্ষতিগ্রস্ত বীমা গ্রাহকরা।

এদিকে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে শেখ কবির হোসেনের পদত্যাগের পর অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদের স্বতন্ত্র পরিচালক পদ থেকে গতকাল পদত্যাগ করেছেন ৭১ টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক।স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি বীমা কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করেন। মোজাম্মেল হক ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর ফারইস্ট ইসলামী লাইফের স্বতন্ত্র পরিচালক মনোনীত হন।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ওই দিন বীমা কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ অপসারণ করে নতুন ১০ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মাহবুবুল মাওলা রিপন, সেক্রেটারি মনিরুল ইসলামসহ সমন্বয়কারী এবিএম খায়ের, জিএম ইমাম হোসেন, মনিরুল ইসলাম, মোশাররফ ভূইয়া এবং রোকেয়া বেগম।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অবৈধ। তারা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের প্রতিবাদ করলে অসংখ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করে। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল করাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। বঞ্চিত গ্রাহকদের মেয়াদপূর্তির টাকা ও মরনোত্তর বীমা দাবি দ্রুত পরিশোধ করা।

পলায়নকারী হাসিনা সরকারের মদদপুষ্ট জবরদখলকারী সালমান এফ রহমানের গঠনকৃত পরিচালনা পর্যদের পদত্যাগ এবং আত্মসাতকৃত হাজার হাজার কোটি টাকা উদ্ধার ও অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে বোর্ড পুনর্গঠন ও দায়িত্ব হস্তান্তর করা।

কোম্পানির হাজার হাজার কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতকারীদের আইনের আওতায় এনে অর্থ উদ্ধারসহ তাদের শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার চাচা বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনের পদত্যাগসহ কোম্পানি থেকে বহিষ্কার করা।

ভাইস চেয়ারম্যান ড. মো. ইব্রাহিম হোসেন খানের পদত্যাগসহ কোম্পানি থেকে বহিষ্কার করা। দুর্নীতিবাজ ও অনৈতিক কাজের সহযোগী, অদক্ষ, অযোগ্য মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আপেল মাহমুদকে বহিষ্কার করা।

এ ছাড়াও সালমান এফ রহমান ও শেখ কবির হোসেনের নিয়োগকৃত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা।
এদিকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় বীমা কোম্পানিটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে মোশারফ হোসেন ভূঁঞা জিডিটি করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, আমি/ আমরা ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ১৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখ সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মনববন্ধন করি। অনুষ্ঠান শেষে র?্যালি নিয়ে ফারইস্ট টাওয়ারের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পুণর্বহাল ও গ্রাহকের টাকা প্রদানের জন্য দাবি জানানো হয় এবং আমরা কর্মসূচি সমাপ্ত করি।

এরপর অদ্য (১৪ আগস্ট) দুপুর ৩.৫৭টার সময় বিবাদী মোবাইল নং ০১৭২৯০৭৮৪৪৪ থেকে আমাকে ফোন করে বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। বর্তমানে নিজের জীবনের নিরাপত্তাহিনতায় ভুগছি।

আর্থিক সংকটের অজুহাতে কয়েক বছর ধরে হাজার হাজার গ্রাহকের বিমা দাবির টাকা পরিশোধ করছে না ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানটিতেই উচ্চ বেতনে গত বছরের ২০ মার্চ মো. আপেল মাহমুদকে মাসিক ছয় লাখ টাকা বেতনে তিন বছরের জন্য সিইও নিয়োগ দেয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।আইডিআরএ‘র কাছে শত শত গ্রাহক বিমা দাবির টাকা না পেয়ে ফারইস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করছেন।

এ নিয়ে গ্রাহকদের পাশাপাশি কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের ২০ মার্চ আইডিআরএ‘র পরিচালক (উপসচিব) মোহাম্মদ আব্দুল মজিদের সই করা অনুমোদনপত্রে আপেল মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের অনুমোদনপত্রে বলা হয়েছে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে মো. আপেল মাহমুদকে গত ৪ জানুয়ারি ২০২৩ হতে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

এতে আরও বলা হয়, আপেল মাহমুদ চুক্তিপত্রের বিভাজন অনুযায়ী মাসিক সর্বমোট ৬ লাখ টাকা বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্ত হবেন। বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সবধরনের লেনদেন অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে সম্পাদন করতে হবে।

এ ব্যাপারে আইডিআরএ’র পরিচালক ও মুখপাত্র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানের এমডি’র বেতন কত হবে তা নির্ধারণ করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। তারা বেতন নির্ধারণ করে অনুমোদনের জন্য আইডিআরএ‘র কাছে পাঠায়। আইডিআরএ সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। সাধারণত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাবে সামান্য ১৯/২০ করে অনুমোদন চূড়ান্ত করে।’

টাকার অভাবে কোম্পানির গ্রাহকরা বিমা দাবির টাকা পাচ্ছেন না। অথচ কোম্পানির এমডির বেতন ছয় লাখ টাকা। এটা কতটা যৌক্তিক? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বিরদ্ধে অনেক গ্রাহক আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন, এটা সত্য। অধিকাংশ গ্রাহকের অভিযোগ বিমার মেয়াদ শেষেও তারা দাবির টাকা পাচ্ছেন না। আমরা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছি।’

Share
নিউজটি ২৮১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged