রেকর্ড উত্থানের প্রত্যাশা থাকলেও উল্টো আচরণ করছে শেয়ারবাজার

সময়: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৪ ১২:১৯:১৬ অপরাহ্ণ

অর্থনৈতিকভাবে এক প্রকার দেউলিয়া হয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু সে দেশের শেয়ারবাজার ঘটছে একের পর এক রেকর্ড উত্থান। দুর্নীতিবাজ সরকারের পতনের পর আমাদের শেয়ারবাজারের অবস্থার উন্নতি হওয়ার কথা। অবশ্য অল্প কিছুদিন সেরকমই আচরণ করেছিল। কিন্তু খুব তড়িঘড়ি করে লাগাম টেনে ধরায় সে উন্নতির ধারা ধরে রাখা যায়নি। এখন উল্টো পতনের ধারায় রয়েছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৭ হাজার ৪০৬টি নতুন বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্টে নতুন বিনিয়োগ হয়েছে। আবার এই একই সময়ে প্রায় ১০ হাজার অ্যাকাউন্ট শেয়ার-শূন্য হয়েছে। অর্থাৎ এসব অ্যাকাউন্টধারী বিনিয়োগকারী তাদের সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি পোশাক শিল্পে অস্থিরতা সত্ত্বেও রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। হুন্ডি ও পাচার কমায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আসা ব্যাপক হারে বেড়েছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের বাড়ছে। এ অবস্থা আশাবাদী হওয়ার মতো হলেও শেয়ারবাজারে কোন প্রভাব নেই।

কারণ এখানে সিংহভাগ বিনিয়োগকারী নিজের বুদ্ধিতে বিনিয়োগ করেন না, তারা জুয়াড়িদের দেখাদেখি শেয়ার কেনেন। জুয়াড়ি চক্র এখন সক্রিয় নয়। ফলে তাদের অনুসারীরা কী করবেন তা নিয়ে বিভ্রান্ত। এটা অবশ্য সাময়িক। যখন বিনিয়োগকারীরা নিজের বুদ্ধিতে বিনিয়োগ করবেন, তখন অর্থনীতির পরিবর্তনগুলোর প্রভাব বাজারে দেখা যাবে।

সুদের হার বৃদ্ধি হলে বড় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ হিসেবে বন্ডে বিনিয়োগ করেন বা উচ্চ সুদের সঞ্চয়ী স্কিমে ডিপোজিট করেন। সুদের হার কমানো এবং আইএমএফের ঋণ নিয়ে অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানো ও মূল্যস্ফীতি কমায় পাকিস্তানের শেয়ারবাজার চাঙ্গা। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারেও অচিরে এমন ধারা দেখা যাবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভেতরে ভেতরে শেয়ারবাজারকে টেনে তুলতে অনেক কাজ করে যাচ্ছে। যদি সফল হয় তাহলে বিএসইসির গুণকীর্তন হবে। আর যদি ব্যর্থ হয় তাহলে বিনিয়োগকারীদের নি:স্ব করার দায়ে কঠোর শাস্তির মুখে পড়বে।

Share
নিউজটি ৩১৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged