নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন সরকারি ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। এর অংশ হিসেবে আগামী রবিবার থেকে শুরু হবে ব্যাখ্যা শুনানি, যা চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২৬ আগস্ট এই পাঁচ ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে সর্বশেষ মূলধন অবস্থা, তারল্য সহায়তা, খেলাপি ঋণ, সিআরআর ও প্রভিশন ঘাটতির তথ্য নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লিখিতভাবে জানাতে হবে কেন তাদের একীভূত করা উচিত নয়।
✅ একীভূতকরণের আওতায় আসা পাঁচ ব্যাংক:
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
ইউনিয়ন ব্যাংক
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
এক্সিম ব্যাংক
তবে শুরু থেকেই এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত হওয়ার বিরোধিতা করছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হকসহ নয়জন শেয়ারহোল্ডার ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন।
৩৫ হাজার কোটি টাকার ব্যয় পরিকল্পনা
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, নতুন ব্যাংক গঠনে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫ হাজার কোটি টাকা সরকারকে মূলধন হিসেবে দিতে হবে, আর বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানত বিমা ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ঋণ হিসেবে। তবে এর জন্য বিদ্যমান আইন সংশোধন প্রয়োজন, কারণ বর্তমানে এই তহবিল কেবল ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারে।
সরকার অনুমোদন দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেবে এবং পরে আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। প্রাথমিকভাবে এটি সরকারি ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের জন্য মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে জায়গা ভাড়ার আলোচনা চলছে। পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন ব্যাংকিং, আইন, আইটি ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা। তারা নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ করবেন।
কর্মী ছাঁটাই আশঙ্কা ও শাখা পুনর্বিন্যাস
একীভূতকরণের ফলে কর্মী ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও, গ্রামীণ এলাকায় নতুন শাখা খোলার মাধ্যমে তা সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, যেখানে আমানত সংগ্রহ হবে, সেই এলাকার বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি নেওয়া হবে।
অমানত কমছে, ঋণ বাড়ছে
গত এক বছরে এসব ব্যাংকের অমানত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অমানত ছিল ১,৫৮,৬০৬ কোটি টাকা
মার্চে নেমে আসে ১,৪৬,৮৯৯ কোটিতে
মে মাসে তা আরও কমে ১,৩৬,৫৪৬ কোটিতে
বিপরীতে ঋণস্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৫,৪১৩ কোটি টাকায়।
খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, পাঁচ ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ১,৪৭,০০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৭৭%। ফলে নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৪,৫০১ কোটি টাকায়।
খেলাপি ঋণের অনুপাত:
ইউনিয়ন ব্যাংক: ৯৮%
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী: ৯৬%
গ্লোবাল ইসলামী: ৯৫%
সোশ্যাল ইসলামী: ৬২%
এক্সিম ব্যাংক: ৪৮%
এছাড়া বিশেষ ধার হিসেবে আমানত ফেরাতে সর্বোচ্চ অর্থ নিয়েছে এক্সিম ব্যাংক (৮,৫০০ কোটি টাকা)। এরপর রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী (৭,০৫০ কোটি), সোশ্যাল ইসলামী (৬,৬৭৫ কোটি), গ্লোবাল ইসলামী (২,২৯৫ কোটি) এবং ইউনিয়ন ব্যাংক (২,৪০০ কোটি)।


