ন্যাশনাল টি’র চেয়ারম্যানের প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার আবেদন খারিজ করলো বিএসইসি

সময়: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫ ৯:৪৪:৩৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)-এর চেয়ারম্যান মামুন রশীদকে কোম্পানির অবিক্রিত প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা মৌখিকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসি’র মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত নোটিস অনুযায়ী, মামুন রশীদ অবিক্রিত শেয়ার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি গত বছর আগস্টে কমিশন পুনর্গঠনের পর এনটিসি’র স্বাধীন পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।

তবে বিএসইসি’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্লেসমেন্ট শেয়ারের জন্য রেকর্ড ডেট ছিল ১৫ মে ২০২৩, তখন মামুন রশীদ কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালক ছিলেন না। ফলে তিনি অফার ডকুমেন্টে অন্তর্ভুক্ত শেয়ারহোল্ডারদের তালিকায় ছিলেন না। বিএসইসি’র মতে, যাদের নাম অফার ডকুমেন্টে ছিল কেবল তারাই শেয়ার কেনার যোগ্য।

২০২২ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) এনটিসি সিদ্ধান্ত নেয়, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, কার্যকরী মূলধন জোগান এবং বাগান ও কারখানার উন্নয়নের জন্য ২ কোটি ৩৪ লাখ প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু করা হবে। এই শেয়ারের অফার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১৯ টাকা ৫৩ পয়সা। বর্তমানে ডিএসইতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বাজারদর ২০৮ টাকা ২০ পয়সা, যা অফার মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ।

তবে স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার, সরকার, আইসিবি, সাধারণ বিমা কর্পোরেশনসহ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও চারবার সময় বাড়ানোর পরও সাবস্ক্রিপশন পূর্ণ হয়নি, ফলে কয়েক লাখ শেয়ার অবিক্রিত থেকে গেছে।

কোম্পানিটি বর্তমানে গুরুতর আর্থিক সংকটে ভুগছে। বিএসইসি’র নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানির ন্যূনতম পেইড-আপ ক্যাপিটাল থাকতে হবে ৩০ কোটি টাকা, কিন্তু এনটিসি’র মূলধন এখনো মাত্র ১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মূলধনের অভাবে সময়মতো চা গাছ রোপণ করা যাচ্ছে না এবং পুরনো যন্ত্রপাতির কারণে চা পাতার মানও নষ্ট হচ্ছে।

ফলে নিলামে প্রতি কেজি চা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, যেখানে উৎপাদন খরচ প্রায় ২৫০ টাকা, যার ফলে প্রতিবছরই লোকসান গুনছে কোম্পানিটি। এর পাশাপাশি, বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষও চলছে, যার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

 

Share
নিউজটি ১৩৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged