সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন

সরকারের সাফল্যে ধাক্কা দিতে শেয়ারবাজারকে টার্গেট করলো ফ্যাসিস্ট দোসররা

সময়: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫ ৬:৪২:২৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত হয় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে রেমিট্যান্স খাতে রেকর্ড অর্জন করে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে সরকার।

বিগত সরকারের আমলে শেয়ারবাজার ছিল একেবারেই তলানীতে। অথচ বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত টানা রেকর্ড লেনদেনে উজ্জীবিত ছিল বাজার। কিন্তু সরকারের সাফল্যকে ম্লান করতে পুরনো ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের ভেতরে এখনো বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠরা। তারা নানা কৌশলে সরকারের সাফল্যকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় টার্গেট করা হয়েছে শেয়ারবাজারকে।

এনবিআরের চিঠিতে বাজারে ধস
জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বর্তমান চেয়ারম্যান, যিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত, হঠাৎ করেই বিএসইসিকে চিঠি দিয়ে এক বছরে ৫০ লাখ টাকার বেশি মুনাফা করা বিনিয়োগকারীদের তালিকা চান। এ খবর প্রকাশ্যে আসতেই বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ১৮৬.৬৪ পয়েন্ট কমে গেছে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতিতে এমন চিঠি একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ছিল। এটি ইস্যু করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, সরকারের সাফল্যকে আড়াল করার জন্য। সামনে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বাজারকে নড়বড়ে করা হয়েছে বলে তাদের মন্তব্য।

সোমবারের লেনদেনে পতন
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (আজ) ডিএসইতে সূচকের উত্থান দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও স্থায়িত্ব ছিল অল্প সময়ের। দুপুর ১২টার পর থেকেই সূচকে টানা পতন শুরু হয়, যা দিনশেষে অব্যাহত থাকে।

ফলে দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৪.৭০ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫,৩৩৭.১৪ পয়েন্টে। অন্যদিকে ডিএসইএস সূচক ৮.৭০ পয়েন্ট কমে ১,১৫০.২৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১১.৮৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ২,০৭১.৫৭ পয়েন্টে।

লেনদেন কমলো টাকার অংকে
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪৪টির দর বেড়েছে, ৩০৩টির দর কমেছে এবং ৫০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

মোট লেনদেন হয়েছে ৫৪৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার, যা আগের কর্মদিবসের ৬২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা থেকে ৭৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা কম।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মিশ্র প্রভাব
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমলেও টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে। এদিন সিএসইতে ২০ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকার।

সিএসইতে মোট ২০১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫৮টির, কমেছে ১৫৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯টির।

দিনশেষে সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৪০.৯২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫,০৫৮.২৬ পয়েন্টে। আগের দিনও সূচক বড় ধস নামিয়েছিল, যা ছিল ১৭৪.০৪ পয়েন্ট।

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাপে বাজারে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সাথে লেনদেনে অংশ নিতে হবে, কারণ সরকারের সাফল্যের ধারাকে ধরে রাখতে শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।

 

Share
নিউজটি ১১৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged