নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকৃত অর্থের সুরক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখন বেশ সতর্কভাবে অবস্থান নিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে বাজারে চলমান অনিশ্চয়তা ও নিম্নমুখী প্রবণতায় মুনাফা অর্জন দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু কৌশলী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের পাঁয়তারা চালালেও অধিকাংশ বিনিয়োগকারী ডিভিডেন্ড মৌসুমকে সামনে রেখে শেয়ার ধরে রাখছেন, যাতে লভ্যাংশের মাধ্যমে লোকসানের প্রভাব কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যায়।
রোববার (০২ নভেম্বর) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুটা ছিল ইতিবাচক। দিনের প্রথমার্ধে সূচকের সামান্য উত্থান দেখা গেলেও দুপুর দেড়টার পর থেকে সূচক নিম্নমুখী ধারা নেয়, যা দিনশেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। যদিও সূচক সামান্য পতন দিয়ে দিন শেষ করেছে, তবে টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে আগের দিনের তুলনায়। তবে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ছিল নিম্নমুখী।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬.৩৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,১১৫.৮৮ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৩.৬৪ পয়েন্ট কমে ১,০৭৮.৯৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪.৮০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১,৯৮২.৯৪ পয়েন্টে।
আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৩৯৫টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১২৮টির দর বেড়েছে, ২০৭টির দর কমেছে এবং ৬০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণে উন্নতি দেখা গেছে আজকের সেশনে। ডিএসইতে মোট ৫৪৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ৪৭৬ কোটি ১০ লাখ টাকার তুলনায় ৬৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বেশি।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ মোট ১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে সেখানে লেনদেন হয়েছিল ১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার।
সিএসইতে আজ লেনদেন হয়েছে ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটে, যার মধ্যে ৯৩টির দর বেড়েছে, ৬৫টির দর কমেছে এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ৩১.২০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪,৩১৭.২৬ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসে সূচকটি বেড়েছিল ১৪.০১ পয়েন্ট।
? সারসংক্ষেপে, বাজারে সতর্ক মনোভাব অব্যাহত থাকলেও লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা আপাতত মূলধনের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং ডিভিডেন্ড মৌসুমের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষার কৌশল নিচ্ছেন।


