নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ফার্মাসিউটিক্যালস খাত ২০২৫ সালের মধ্যেই ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে ১.৮৩ শতাংশ অবদান রাখা এই শিল্প ১৫০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। তবে প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে কিছু অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে খাতটি, যার টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য শেয়ারবাজার হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৫) রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি (বিএপিআই) কার্যালয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বিএপিআই-এর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়, এবং সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএপিআই সভাপতি ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির।
ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা শেয়ারবাজারকে এমনভাবে রূপান্তর করছি যাতে এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়।” তিনি জানান, ডিএসই ইতোমধ্যে ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়া দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রবাহ ও স্বচ্ছতা বাড়াতে “ডিএসই সেন্ট্রাল ইনফরমেশন আপলোড সিস্টেম” চালুর প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে ডিএসই-তে ফার্মাসিউটিক্যালস ও কেমিক্যাল খাতের মোট ৩৪টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত আছে।
সভায় বিএপিআই সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের সরবরাহ, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং কর কাঠামোর সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত না করলে শেয়ারবাজারের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণগ্রহণের হার ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি টানা তিন মাস ধরে নিম্নমুখী হওয়ায় বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে নীতির ধারাবাহিকতা জরুরি।
তিনি কর কাঠামোর বৈষম্য তুলে ধরে বলেন, “বর্তমানে পাবলিক ও প্রাইভেট কোম্পানির করহার প্রায় সমান। এতে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রণোদনা কমে যাচ্ছে। তাই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য কর সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন।”
ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, “পাবলিক কোম্পানির অন্যতম সুবিধা হলো স্বচ্ছতা ও কর সুবিধা, যা বিনিয়োগকারীর আস্থা তৈরি করে।”
ডিএসই’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমান জানান, “ডিএসই বর্তমানে তিনটি প্ল্যাটফর্মে লিস্টিং সুবিধা দিচ্ছে—মূল বোর্ড, এসএমই বোর্ড ও অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি), যেখানে এটিবি উদীয়মান উদ্যোক্তাদের জন্য আদর্শ।”
ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, “সৎ ও দক্ষ উদ্যোক্তারা যদি শেয়ারবাজারে না আসেন, তাহলে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো সুযোগ নেয়।”
রেনাটা পিএলসি’র সিইও সৈয়দ এস. কায়সার কবির বলেন, “শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির মূল সুফল হলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বৃদ্ধি ও বাজারে আস্থা সৃষ্টি।”
অন্যদিকে হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সিইও মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, “বড় কোম্পানির সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় বিপুল তহবিল ব্যাংকের পরিবর্তে শেয়ারবাজার থেকে তুললে ব্যয় ও ঝুঁকি উভয়ই কমবে।”
বৈঠকের শেষে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, “শেয়ারবাজারের উন্নয়ন কোনো একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। সম্মিলিত উদ্যোগ ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস খাত খুব শিগগিরই ৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে।”


