নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফু-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক অনিয়ম ও তথ্যগত ঘাটতি শনাক্ত করেছেন নিরীক্ষক। ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের এই প্রতিবেদনে নিরীক্ষক একযোগে ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’ এবং ‘এম্পাসিস অব ম্যাটার’ উল্লেখ করেছেন, যা কোম্পানির আর্থিক হিসাব পুরোপুরি বাতিলযোগ্য না হলেও উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতির উপস্থিতি নির্দেশ করে।
নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফু-ওয়াং সিরামিকের কাছে মোট ৭৯ লাখ টাকার দাবিহীন ডিভিডেন্ড জমা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ লাখ টাকা তিন বছরের বেশি সময় ধরে অবণ্টিত অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ২০২১ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, তিন বছরের বেশি সময়ের দাবিহীন ডিভিডেন্ড ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) হস্তান্তর করা বাধ্যতামূলক হলেও অডিট কার্যক্রম চলাকালীন সময় পর্যন্ত কোম্পানিটি এই অর্থ স্থানান্তর করেনি। এই বিধি লঙ্ঘনের কারণেই মূলত কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’ প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া ‘এম্পাসিস অব ম্যাটার’ অংশে নিরীক্ষক আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানিটির গ্র্যাচুইটি ফান্ড এবং শ্রমিকদের মুনাফা অংশগ্রহণ ও কল্যাণ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) আগের বছরের কোনো নিরীক্ষিত হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিবেদনে ৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকার আয়কর সঞ্চিতি দেখানো হলেও কর নির্ধারণ বা ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্টের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যদিও কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কর সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আগামী প্রান্তিকে প্রকাশ করা হবে, তবে নিরীক্ষকের মতে এসব অসংগতি ফু-ওয়াং সিরামিকের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের তথ্য গোপন বা অসম্পূর্ণ প্রকাশ শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে।


